রাষ্ট্রপতির শেষ শয্যা বকুল ছায়াতলে

0
106
Print Friendly, PDF & Email

বনানী কবরস্থান : প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানকে বুকে ধারণ করতে প্রস্তুত হয়েছে বনানী কবরস্থানের ১৪৯৩/৮৩ নম্বর কবরটি। কবরের মাথার কাছে একটি নারিকেল গাছ আর পায়ের কাছে বকুল ফুলের গাছ। বকুলের গাছটি অনেক বড় হওয়ায় পুরো কবরটি ছেয়ে গেছে। এর চারপাশে রয়েছে মার্বেল পাথরের মোজাইক।
স্ত্রী আইভি রহমানের কবরেই শেষ শয্যা নেবেন তিনি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত স্ত্রী আইভি শায়িত আছেন এখানেই।

রাষ্ট্রপতির দাফন অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মাহমুদুল হক।
মাওলানা মাহমুদুল হক বলেন, “আমাদের সব প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। কবরও প্রস্তত। বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির মরদেহ বনানী কবরস্থানে আসবে। এরপর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে স্যালুট প্রদান করা হবে। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা ও দাফন শেষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর দোয়া অনুষ্ঠান হবে।”
রাষ্ট্রপতির কবরটি খনন করেন জাহাঙ্গীর আলম সরকার। তিনি কবরটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইভি রহমানের কবরটির কেয়ারটেকারও ছিলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম সরকার বনানী কবরস্থানে প্রায় ২০ বছর ধরে চাকরি করেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়। আইভি রহমানের দাফনের পর ২০০৪ সাল থেকে তিনি তার কবরের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর আর কবর খনন করেননি।

এবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে তিনি বৃহস্পতিবার রাতে কবরটি খনন করেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নানক সাহেব আমাকে পছন্দ করেন। তিনি আমাকে এই কাজে নিয়োজিত করেছেন। আমি আমার সর্বোচ্চ যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে আইভি রহমানের কবর ও রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের কবরের যত্ন করবো। আমি মনে করি, এটি আমার দায়িত্ব।”
 
তিনি বলেন, “সবাইকেই শেষ শয্যা নিতে কবরে আসতেই হয়। তবে প্রয়াত জিল্লুর রহমান একজন ভালো ও সম্মানিত মানুষ ছিলেন।

আমি তার জন্য কাজ করতে পেরেছি এটাই আমার সৌভাগ্য।”

মার্চ ২২, ২০১৩

শেয়ার করুন