একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদ একদিনে প্রাণ হারায়নি: কর্নেল অলি

0
70
Print Friendly, PDF & Email

চট্টগ্রাম: বর্তমান সরকারের ‍অত্যাচার নির্যাতন পাক হানাদার বাহিনীকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া বর্তমান এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।

তিনি শুক্রবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,‘বর্তমান সরকারের অত্যাচার নির্যাতন পাক হানাদার বাহিনীকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে মানুষকে যেভাবে কুকুরের মতো মারা হচ্ছে পাকবাহিনীও এমন নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করেনি।‘

সম্প্রতি বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশি নির্যাতন, হত্যা, গণপ্রেফতার, ১৮ দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কর্নেল(অব.) অলি দাবি করেন, সম্প্রতি দক্ষিণ চট্টগ্রামের যেসব উপজেলায় সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে ১৮ দলীয় জোট জড়িত নেই।

বরং সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে এসব ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন.‘ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ক্ষেপিয়ে তুলতে সরকার দলীয় সমর্থকরা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।’

একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদ একদিনে প্রাণ হারায়নি: 

সরকার নির্বিচারে মানুষ হত্যা, জুলুম নির্যাতন করছে উল্লেখ করে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন,‘এ সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একদিনে ৭৭ জন এবং এক মাসের ব্যবধানে মোট ১৭০জন মানুষ হত্যা করেছে।‘

এটাকে ‘গণহত্যা’ হত্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,‘আওয়ামীলীগের এ ধরণের বর্বরতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকেও হার মানায়। ইয়াহিয়ার ‍অত্যাচারকেও বর্তমান সরকারের নির্যাতন ছাড়িয়ে গেছে।‘

১৭০ জনের প্রাণহানি একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদের চেয়েও বেশি কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি বলেন,‘৩০ লাখ শহীদ এক দিনে প্রান হারায়নি। বর্তমান সরকারের আমলে একদিনেই ৭৭জন প্রাণ হারিয়েছে।’

এছাড়া বর্তমানে যেভাবে কুকুরের মতো মানুষকে নির্যাতন হত্যা করা হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীও এমন নৃশংশভাবে মানুষ হত্যা করেনি।‘

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে অনেক রাজবন্দি ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক নেতারাও ক্রিমিলাল আসামী। এ সরকারের কাছে কারো কোন মর্যাদা নেই।

জুলাইয়ে সরকার পতন:

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ দক্ষিণল চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত-বিএনপির বেশ কিছু নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু এ তাণ্ডবকে সরকারি দলের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই গণগ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এলডিপির সভাপতি বলেন,‘এসব হামলা, নির্যাতন বন্দ না করলে আগামী জুলাইয়ের সরকারের পতন ঘটানো হবে।‘

দক্ষিণ চট্টগ্রাম অচলের হুমকি:

অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ না করলে আবারো দক্ষিণ চট্টগ্রাম অচলের হুমকি দিয়েছেন এলডিপির সভাপতি কর্নের অলি আহমেদ।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনগণের উপর সরকার অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গণগ্রেফতার, দায়েরকৃত মামলা, গ্রেফতারকৃত আসামীদের মুক্তি না দিলে এ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

তিনি বলেন,‘ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ করে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম অচল করে দেয়া হবে।’

এক মিনিট নিরবতা: 

জাতীয় শোক দিবস চলাকালে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কারণ ব্যখ্যা করে কর্নের অলি বলেন,‘আজ জাতীয় শোক দিবস চলছে। আগেই থেকেই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দেয়ায় বাতিল করা হয়নি।‘

এসময় সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে কর্নেল অলি বলেন,‘আজ এমন একজন ব্যক্তির শোক দিবস পালন করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা নেই। এমন রাষ্ট্রপতির মৃত্যু আমরা ব্যথিত শোকাহত।

রাষ্ট্রপতি সংসদে দাঁড়িয়ে কখনো কাউকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাংসদ জাফরুল ইসলাম, নগর জামায়াতে আমীর সাংসদ আনম শামসুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, সহসভাপতি মুহাম্মদ ইসহাক, ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক, দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

 মার্চ ২২ ২০১৩

শেয়ার করুন