জামায়াতের মিথ্যাচার: কক্সবাজারে জীবিতকে মৃত বলে দাবি!

0
90
Print Friendly, PDF & Email

কক্সবাজার: জামায়াত-শিবিরের চরম মিথ্যাচারের প্রমাণ মিলেছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত বলে দাবি করা এক ব্যক্তিকে জীবিত সন্ধান পাওয়ার পর তা পরিস্কার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি জুম্মার নামাজের পর কক্সবাজার শহরে পুলিশ ও জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩ হলেও জামায়াতের দাবি ছিল ৪ জন। পুলিশের দাবি করা ৩ জনের মৃতদেহ এবং নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলেও অপর একজনের সন্ধান মিলছিল না।

কিন্তু ঘটনার ১০/১২ দিন পর ফেসবুকের ‘বাঁশের কেল্লা’ নামে জামায়াতি একটি গ্রুপের মাধ্যমে একটি ভিডিও চিত্র ট্যাগ করা হয়। ওই ভিডিও চিত্রে পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে প্রচার চালানো হয়। এমনকি ওই যুবকের লাশও গুম করার অভিযোগ করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ভিডিও চিত্রটি প্রচার হওয়ার পর থেকে দেশে-বিদেশে পুলিশের ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভিডিও চিত্রে দাবি করা হয়, পুলিশ এ যুবককে ব্যাপক মারধর করে খুব কাছে থেকে গুলি করে। এ নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা।

ঘটনার ৩৩ দিন পর বুধবার রাতে মৃত বলে দাবি করা ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ যুবকের নাম নবাব মিয়া (৩০)। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ডিকপাড়ার সিরাজুল হকের ছেলে।

কক্সবাজার সদর থানায় নবাব মিয়ার সঙ্গে কথা হয় সাংবাদিকদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার মা জহুরা খাতুন, পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ ও ইউপি সদস্য তাজমহল।

নবাব মিয়া সাংবাদিকদের জানান, তিনি একজন সাধারণ কৃষক। ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার তিনি কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায় খালার বাসায় বেড়াতে আসেন। শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায় করেন রুমালিয়ারছড়া ভিটিআই সংলগ্ন মসজিদে। মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পড়ে যান দুই দিক থেকে আসা দুটি মিছিলের মাঝখানে।

তখন পুলিশ ধাওয়া দিলে শুরু হয় দৌঁড়-ঝাপ। এ সময় তিনি দৌঁড়ে পিটি স্কুল বাজারের কাছে একটি স্থানে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পরেই কয়েকজন পুলিশ গিয়ে তাকে গালিগালাজ করতে করতে কিল-ঘুষি-লাথি মারতে থাকেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে তাদের কাছে বাঁচার আকুতি জানান।

হঠাৎ করে একজন পুলিশ সদস্য তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে ফেলে চলে যান। এরপর তার আর কিছুই স্মরণে ছিল না। পরে কে বা কারা তাকে উদ্ধার করে আল ফুয়াদ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি চিকিৎসার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে। ২৮ দিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। তবে, ভয়ে ও আতঙ্কে ঘর থেকেই বের হননি তিনি।

নবাব মিয়া আরও জানান, তাকে যখন মারধর ও গুলি করা হচ্ছিল তখন পুলিশ ছাড়া আশপাশে অন্য কেউ ছিল না।

কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) জসীম উদ্দিন জানান, নবাব মিয়ার অবস্থা মারা যাওয়ার মতো গুরুতর ছিল না। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তিনি মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়েছে। তাকে জীবিত উদ্ধারের ফলে গুজবের অবসান হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্চ ২১, ২০১৩

শেয়ার করুন