বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ডাচ বাংলা ব্যাংকের তামাশা!

0
100
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের (সাধারণ শেয়ার হোল্ডার) সঙ্গে যেন তামাশা শুরু করেছে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল)। ব্যাংকটি বিদায়ী বছরে (২০১২ সাল) অর্জিত মুনাফার মাত্র ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে এর চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটালো ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। অথচ আর্থিক সূচকে ডিবিবিএল থেকে অনেক রুগ্ন প্রতিষ্টানও শতভাগ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের এহেন আচরণে ক্ষুদ্ধ ও হতাশ অনেক বিনিয়োগকারীই তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের অনেকের যাদের ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, তারা টেলিফোন এবং ই-মেইলে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন, বিদায়ী বছরে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে। আর্থিক সূচকের নানা দিকেই ভালো করেছে বলে দাবি করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, ‘‘ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য কিভাবে মাত্র ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করল, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’’

সূত্র জানায়, ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোট শেয়ারের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। এর মধ্যে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাতে। আর বাকি ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে।

রানু আকতার নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এক শেয়ারে বিনিয়োগকারী ই-মেইলে জানান, ‘‘আমরা জানতে পেরেছি, ডাচ বাংলা ব্যাংক ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যা ২০১১ সালের সমান। অথচ ২০১১ সালে ব্যাংকটির নীট মুনাফা ছিলো ৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু বিগত ২০১২ সালে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে এর নীট মুনাফা বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু মুনাফা বাড়লেও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার পরিমাণ বাড়ায়নি। এতে আমরা সাধারণ শেয়ার হোল্ডাররা রীতিমতো হতাশ হয়েছি।’’  

আরেক বিনিয়োগকারী মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘‘ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার কিনে প্রায় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছি। আশা করেছিলাম, ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের জন্য বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে আমাদের রক্ষা করবে। কিন্তু তা না করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটি অপ্রত্যাশিত।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমরা রীতিমতো হতাশ। তারা আমাদের সঙ্গে খামখেয়ালি আচরণ করলো।’’

আরেক বিনিয়োগকারী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘‘ডাচ বাংলা ব্যাংক ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে আমাদের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করলো। কিন্তু আমরা এখানে বিনিয়োগ করেছি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিকে না তাকিয়ে ব্যাংক ও এর পরিচালনা পর্ষদ ঠিকই ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করে নিচ্ছে।’’

এদিকে, পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে নতুন ফন্দি করছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে আরো ৩শ’ কোটি টাকা তুলে নিতে চায়। তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ডাচ বাংলা ব্যাংক রাইট শেয়ার ইস্যু করে বাজারে তাদের পরিশোধিত মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে পারতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণার নতুন পথ ধরে এগোচ্ছে। জানতে চাইলে ডাচ বাংলা ব্যাংকের কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।

 মার্চ ২০, ২০১৩

শেয়ার করুন