শোকাবহ বঙ্গভবন, চলছে শেষশ্রদ্ধা

0
59
Print Friendly, PDF & Email

বঙ্গভবন থেকে: সবার কাছে শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাতি। দুপুর ১টা ৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে আসা হয় বঙ্গভবনে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন আসে পুষ্পসজ্জিত গাড়িতে।

সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকাবহ ভাবগম্ভীর পরিবেশে রাষ্ট্রপতির মরদেহ গ্রহণ করেন তারা। বঙ্গভবন মাঠে স্থাপিত মঞ্চে রাষ্ট্রপতির প্রতি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানান।

দুপুর দেড়টার দিকে ভিআইপিদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে বঙ্গভবনের দরবার হলে মরদেহ। প্রথমেই দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। এখানে শ্রদ্ধা জানান স্পিকারের পক্ষে ডেপুটি স্পিকার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম প্রমুখ ব্যক্তিত্বরা। বঙ্গভবন মাঠ থেকে মরদেহ নেওয়া হয় দরবার হলে।

১টা ৫০ বঙ্গভবনে পৌঁছান বিরোধী দলী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ। দরবার হলেই তারা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা শেষে খালেদা জিয়া শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ রাজনীতিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির মরদেহ রাখা হবে বঙ্গভবনের মাঠে। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বিকেল সাড়ে ৫টায় নিয়ে যাওয়া হবে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের মরচুয়ারিতে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফের বঙ্গবভনে নেওয়া হবে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মরদেহ। সেখানে কোনো বিদেশি অতিথি বাংলাদেশে এসে তারা শ্রদ্ধা জানাবেন। বেলা ১টা ৩০ মিনিটে মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় ঈদগাহে। সেখানে বাদ জুমা আদায় করা হবে নামাজে জানাজা। বেলা সাড়ে তিনটায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে, স্ত্রী আইভী রহমানের পাশে। তবে শুক্রবার সকাল ৯টায় রাষ্ট্রপতির মরদেহ নেওয়া হবে তার জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। এখানে আসমত আলী কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম নামাজে জানাজা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির মরদেহ যখন ঢাকায় পৌঁছে তখন বিমানবন্দরে এক শোকের আবহ তৈরি হয়। দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে রাষ্ট্রপতির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়।

এরপর ১২টা ১০ মিনিটে কফিন নামানো হয় ফ্লাইট থেকে। মেজর জেনারেল পদমর্যাদার ১০ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা কাঁধে তুলে নেন রাষ্ট্রপতির মরদেহ। সে অবস্থায় তাকে সশস্ত্র সালাম জানায় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল। কিছুদূর এগিয়ে নিয়ে কফিন রাখা হয় একটি মঞ্চের ওপর।

সেখানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির কফিনে প্রথমেই শ্রদ্ধা জানান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শ্রদ্ধা জানান।

এরপর কফিন তোলা হয় জাতীয় পতাকায় মোড়ানো, ফুলে সাজানো একটি গাড়িতে। ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে গাড়িটি বিমানবন্দর থেকে চলতে শুরু করে। পুরো পথে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ কালো কাপড় নেড়ে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে তাদের শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে থাকে। ঠিক ১টা ৩ মিনিটে কফিনবাহি মোটর শোভাযাত্রাটি পৌঁছায় বঙ্গভবনে।

বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের (১৯২৯-২০১৩) মৃত্যু হয়।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের প্রথম দিনটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই কার্যকর হয়েছে দিনের সাধারণ ছুটি। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এই ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। দেশের জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সকল ক্ষেত্রেই এই ছুটি কার্যকর থাকবে।  

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার এই জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই সভাপতিত্বে বৈঠকে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের সময় সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি জানান, সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

এসময় আনা শোক প্রস্তাবে বলা হয়, মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে একটি সংগ্রামী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো। তার মৃত্যু রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

মার্চ ২১, ২০১৩

শেয়ার করুন