বিপর্যয়ের মুখে নদী অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ

0
121
Print Friendly, PDF & Email

দখল দুষন আর ভরাটের কারনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিলসেই সাথে চলনবিল কেন্দ্রিক প্রধান নদী আত্রাই, নন্দকুঁজা ও গুমানী, বড়ালসহ ১৬ টি নদ-নদী মৃতপ্রায় হয়ে গেছেফলে নদী এলাকার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে

এদিকে বিশ্ব নদী দিবস উপলে ১৪ মার্চ চলনবিলসহ মৃতপ্রায় নদী নদীগুলোকে রায়নদী পাড়ের চার জেলার আট উপজেলার মানুষ ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পৃথিবীর বৃহত্তম মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেরাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা নদীর উস মুখ থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িঘাট ১ঘন্টার (বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২) চলা ওই কর্মসুচিতে বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করে

মানববন্ধনে নেতৃত্বদেয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বড়াল রা আন্দোলন ও চলনবিল রা আন্দোলন কমিটিপ্রমত্তা পদ্মার শাখা নদী বড়াল র, দখলমুক্তকরণ, বাঁধ অপসারণ, পুনঃখনন ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানায়

ইম্পেরিয়েল গেজেট অব ইন্ডিয়া বই থেকে জানা যায়-চলনবিল অঞ্চলে ১৭৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি বিল, ৪২৮৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১৬টি নদী এবং ১২০ বর্গ কি.মি. আয়তন বিশিষ্ট ২২টি খাল রয়েছেএরমধ্যে প্রধান নদী ৯টি, ২০টি খালসহ ছোট ছোট বিভিন্ন বিল ও খাল রয়েছেঅতীতে ২৩ হাজারেরমত বড় বড় পানির আধার ছিলযা বেশীর ভাগই বেদখলকৃত ও হাত ছাড়া হয়ে গেছে

নদীগুলোর মধ্যে আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, গুড়, করতোয়া, বড়াল, তুলসি চেঁচিয়া, ভাদাই, চিকনাই, বানগঙ্গা ইত্যাদি১৮টি খালের মধ্যে নবীরহাজির জোলা, হকসাহেবের খাল, নিমাইচড়াখাল, বেশানীরখাল, গুমানীখাল, উলিপুরখাল, সাঙ্গুয়াখাল, দোবিলাখাল, কিশোরখালির খাল, বেহুলারখাড়ি, বাকইখাড়া, গোহালখাড়া, গাড়াবাড়ি দারুলখাল, কুমারভাঙ্গাখাল, জানিগাছার জোলা, সাত্তার সাহেবের খাল, কিনু সরকারের ধর, পানাউল্লা খাল

ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে-জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব ও ৮০র দশকে পদ্মার উস মুখে অপরিকল্পিত ¯øুইসগেট নির্মানের ফলে চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদ-নদী ও বিল, জলাশয়, খালগুলোতে পলি জমে ক্রমশঃ ভারাট হয়ে গেছেতাছাড়া বিলের মাঝ দিয়ে যথেচ্ছা ভাবে সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট, নদী দখল করে বসতি, দোকান পাট স্থাপন করায় নদীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছেপানির স্তর নিচে নামতে নামতে এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এখন নদীগুলো ৪/৫ মাসের বেশী পানি থাকে নাশুকনো মওসুমে টিউবয়েল ও শ্যালোমেশিনে পানি পাওয়া যায়নাফলে খাবার ও ইরিগেশনে সেচ দেওয়ার পানি পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ড.মো. রেদওয়ানুর রহমানের প্রবন্ধ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে,-  প্রায় ২৫ বছর আগেও চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে বছর জুড়েই ৬-১২ ফুট পানি থাকতফলে বছর জুড়েই নৌচলাচল করতোকিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে এসব নদী ভরাট হয়ে গেছেপরিসংখ্যানমতে, প্রতি বছর ২২২১/২  মিলিয়ন ঘনফুট পলি প্রবেশ করে ৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বর্ষায় চলনবিলে ত্যাগ করেঅবশিষ্ট ২৬৯১/২  মিলিয়ন ঘনফুট পলি নদ-নদীসহ চলনবিলে স্থিতি থাকে

পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, বড়াল রা আন্দোলনের সমš^য়কারি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মিজানুর রহমান জানান,- দেশের বৃহত্তম পদ্মা-যমুনা নদী এবং জলাভুমি বিশাল চলনবিলের মধ্যে প্রধান সংযোগ নদী হচ্ছে বড়ালএই নদী ৪টি জেলা ও ৮টি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছেরাজশাহীর চারঘাট থেকে উপত্তি হয়ে চলনবিলের মধ্যে দিয়ে মুশাখা, নন্দকুজা, চিকনাইসহ বেশ কয়েকটি নদীর জন্ম দিয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির হুড়াসাগর হয়ে যমুনায় মিলিত হয়েছেএক সময় এই নদী ছিল প্রবহমানকিন্তু ৮০র দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ভাবে নদীর উস মুখ ও ৪৬ কিলোমিটার ভাটি এলাকার আটঘরিয়ায় ¯øইসগেট নির্মান, পাবনার চাটমোহরে তিনটি ক্রস বাঁধ ও ¯øুইসগেট  নির্মানের কারনে প্রমত্তা বড়াল বর্তমানে পকুরে পরিনত হয়েছেএছাড়া কয়েকটি শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য পানি দুষন সহ ভুমি দস্যুদের কবলে পড়ে বিলিন হয়ে যাচ্ছে

স্থানীয়দের অভিযোগ,- একটি ¯^ার্থাš^ষী মহল কতিপয় স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগসাজসে বড়াল নদীকে অবয়িত জলাশয় ঘোষনা করে খনন করে দখলে নেয়ফলে নদীর সংলগ্ন এলাকায় ফসলহানি, বদ্ধ পানিতে দুষন-র্দুগন্ধ-রোগবালাই, জেলে-কৃষক, ব্যবসায়ীরা বেকার ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেভুমি দস্যুরা দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখায় নদী তীরবর্তী জেলে ,কৃষক, ¶ুদ্র ব্যবসায়ীদের বেকার বানিয়ে নদী ধংসের অপকর্মে নেমেছেব্যবস্থাপনার নামে অকেজো হয়ে পড়া ¯øুইসগেটগুলো এখন সরকারী টাকা অপচয়ের প্রধান উস হয়ে দাঁড়িয়েছেসব জেনেশুনে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিরব রয়েছেবড়াল নদীকে পৃর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবী করেছে নদীর তীরবর্তী মানুষ

বড়াইগ্রাম বড়াল রা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব ডিএম আলমগীর জানান,- বড়াল নদী চালু ও তা রার জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বড়াল রা আন্দোলন, চলনবিল রা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের মানুষ গত ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলনে নামেনাটোর, পাবনা ও রাজশাহীর সংসদ সদস্যরাও ওই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করেনপরবর্তীতে জনদাবীর মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাস্কফোর্স গঠন করেনদী বিষয়ক টাস্কফোর্স এবং ভুমি মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় বড়াল নদীর সব বাধা অপসারন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়কিন্তু বাস্তবে নদী উদ্ধারে কিছুই করা হয়নিবড়াল নদীর ওপর নির্মিত সকল ¯øুইসগেট-বাঁধ অপসারন করে সেখানে প্রস্থ সেতু নির্মান করা সহ নদীর সীমানা চিহ্নিত ও দখলদার উচ্ছেদ করে অচল নদী সচল করতে এই আন্দোলণ

বড়াল রা আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান,- ১৯৮৫ সালে ২০ হাজার কিউসেক পানি ¯^াভাবিক প্রবাহ থাকার সময় পানি  উন্নয়ন বোর্ড বড়াল নদীর উসমুখ  চারঘাট এলাকায় ৬ হাজার কিউসেক  পানি প্রবাহের ¯øইসগেট নির্মান করে 

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রমজান আলী মোল্লা জানান, নদীর তীরবর্তী বাঁধ বা ¯øুইসগেট নির্মাণে নদীর নাব্যতা  বাধাগ্রস্থ হওয়ার ধারনা ঠিক নয়গঙ্গা ব্যারেজের কারনে উজানে পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ  কমে যাওয়ায় বড়ালের নাব্যতা কমে গেছেএটি একটি  জাতীয় সমস্যাতবে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চলমান আছে

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন,- চলনবিলসহ বড়াল নদীকে রা করতে পারলে উত্তরের ৮ উপজেলার অর্ধকোটি মানুষের ¯^াভাবিক জীবন-যাত্রা অব্যহত থাকবেবেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে অন্তত পে ১০ লাখ মানুষতাই নিজেদের ¯^ার্থ চলনবিল ও বিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো রায় সোচ্চার হচ্ছে মানুষ

২০ মার্চ/২০১৩/নিউজরুম.

শেয়ার করুন