আমি বড় কোচ নই নজরুল ইসলামের (লেদু)

0
98
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস ডেস্ক খেলোয়াড়ি জীবনে যতি টেনেছেন ১৯৮৬ সালেকিন্তু খেলার মাঠ ছাড়তে পারেননিপ্রায় ২৭ বছর ধরে নিরলসভাবে কোচিং করাচ্ছেনফুটবল সংগঠকওতবে নজরুল ইসলামের (লেদু) বড় পরিচয় তিনি একজন কোচস্বাধীনতা কাপ ফুটবলে কাল মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ড্রয়ের পর খুবই তৃপ্ত দেখাল চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচকে

 বিদেশি ফুটবলার নিয়ে খেলেছে মুক্তিযোদ্ধাঅথচ বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই দারুণ খেলল চট্টগ্রাম আবাহনী!l
নজরুল ইসলাম (লেদু): এটা আসলে অসম প্রতিযোগিতাসেজন্য আজকের ড্রটা আমার চোখে জয়ের সমানখেলোয়াড়দের কাছে যা চেয়েছিলাম, ওরা সেটা পূরণ করেছেআমি বড় কোচ নইকিন্তু খেলোয়াড়দের রিড করি, ওদের মনের ভাষাটা বোঝার চেষ্টা করিআমার চাওয়াটাও ওদের বুঝতে দিইএসবের সমন্বয়েই এই ফলবঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তো একটা ম্যাচও খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না আপনারা?l
নজরুল: এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপারএই স্বাধীনতা কাপের ১২টা দলের মধ্যে ১১টা দলই কোনো না কোনো ম্যাচ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলবেঅথচ বাফুফে আমাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেএকটা ম্যাচও দেয়নি
 এবার আপনার কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু বলুন?l
নজরুল: আমি ২৬-২৭ বছর ধরে কোচিং করাচ্ছি১৯৮৭ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবল দিয়ে শুরুএরপর আমি চট্টগ্রামে মোহামেডান, আবাহনী, সিটি করপোরেশন, মুক্তিযোদ্ধা…সব বড় দলে কোচিং করিয়েছি২০০২ সালে প্রথম বাংলাদেশ গেমসে আমি ছিলাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কোচসেবার দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলাম
 ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাবটা তো আপনার ছোঁয়ায় জেগে উঠেছিল…l
নজরুল: ১৯৯৩ সালে আমি ফকিরেরপুল দলের দায়িত্ব নিয়ে দলটাকে প্রিমিয়ারে তুলি ১৯৯৬ সালে১৯৯৯-২০০০ সালেও ফকিরেরপুলের কোচ ছিলামতখন চট্টগ্রামের ৮-১০ জন তরুণ খেলোয়াড়কে পেয়েছিলামবিকেএসপির কিছু খেলোয়াড়ও ছিলফকিরেরপুলকে চ্যাম্পিয়ন করার সুবাদে ১৯৯৪ সালে আমাকে ফুটবল ফেডারেশন উচ্চতর ট্রেনিংয়ের জন্য মিয়ানমারে পাঠায়
 ঢাকায় না থেকে কেন চট্টগ্রামে চলে গেলেন?l
নজরুল: পারিবারিক কারণেই চট্টগ্রামে চলে যেতে হয়তখন সবে বিয়ে করেছিএরপর বাবা হলামঢাকায় থাকা কষ্ট হয়ে যাচ্ছিলএ জন্য ভাবলাম চট্টগ্রামেই থাকতে হবে
 আপনি যখন খেলেছেন তখনকার সঙ্গে এখনকার ফুটবলের পার্থক্য কোথায়?l
নজরুল: তখন ব্যক্তিগত প্রতিভা ছিল বেশিকিন্তু বর্তমানে খেলা হয় টোটাল ফুটবলআগে যদি পাঁচটা স্কিলফুল ফুটবলার থাকত তারা সবাই মাঝমাঠ থেকে পাঁচজনকে কাটিয়ে গোল করতএখন প্রতিটি জোনে পরীক্ষা দিতে হয়তখন খেলোয়াড়দের মধ্যে আন্তরিকতা ছিলএখন সেটা নেইসবাই পেশাদারমাঠে গিয়ে আগে প্রথমেই দেখে যে, কর্মকর্তা এসেছে কি নামাঠের ভেতরের দরকারি সরঞ্জাম আছে কিনাআমরা শুধু নাশতা-পানি খেয়ে খেলেছিফুটবল খেলার পর পুরি খেয়েছি, পেঁয়াজু খেয়েছিএখন রিকভারি করার জন্য কলা-ডিম দেওয়া হয়, যেগুলো আমরা পাইনি
 আপনি কোচিংয়ে কেমন টাকাপয়সা পাচ্ছেন?l
নজরুল: আমি এসব নিয়ে ভাবি নাপারিবারিক ব্যবসা আছে বলে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নইকোচিংয়ে যেটা পাই সেটা দিয়ে আমার ফ্যামিলি চলবে নাএখনো ফুটবল আমার কাছে নেশা, ভালোবাসা
 এই স্থূল শরীর নিয়ে এত খাটাখাটুনি সহ্য হয় আপনার?l
নজরুল: আসলে আমার বডিটা বালকিকিন্তু ১০০ ভাগ সুস্থ আমিশুধু কোমরে সামান্য ব্যথা আছেতবে পুরো ফিট
 আপনি অনেক বড় বড় খেলোয়াড় তৈরি করেছেন…l
নজরুল: আমি সেটা বলব নাআমি কোনো ফুটবলারের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই নাআমি জানি অনেকেই আছে…ওরাই বলবে আমি লেদু ভাইয়ের প্লেয়ারআমি পরিচয় দেব নাকোনো দিন সেটা দিইওনি
 মাঠে আর কত দিন আপনাকে দেখা যাবে?l
নজরুল: যত দিন ফিট থাকব তত দিন ক্রীড়াঙ্গনে থাকব

 

( মার্চ): নিউজরুম

 

শেয়ার করুন