ভাইগ্য বালা তৃণামণি কোচিং’ও আছিল, নাইলে ইজ্জারে হাইতাম না, টেরাকের চাপায় চলি যাইতো

0
158
Print Friendly, PDF & Email

মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা : ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আট বছরের শিশু তমা। সোমবার পর্যন্ত তমার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবু তাহের ঢাকায় লড়ছেন মেয়েকে বাচাঁতে। বাচাঁতে পারেননি ছোট ছেলে নিহাদকে। তার জন্যে কান্নারও সময় পায়নি পরিবারটি। আহত মেয়েটিকে তো বাচাঁতে হবে।

ট্রাক দুর্ঘটনায় হাতিমাড়া গ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবু তাহেরের। দুঘর্টনা পরিবারটিকে বিধ্বস্ত করেছে। নিহত সাত ক্ষুদে শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন আবু তাহেরের ছেলে নিহাদ আর আহতদের একজন তমা।

আবু তাহেরের ছোট ছেলে প্লে গ্রুপের ছাত্র হাসিবুল হাসান নিহাদ (৬) এখন পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত। একই দুঘর্টনায় তার মেজ মেয়ে চতুর্থ শ্রেণি ছাত্রী শানজিদা আক্তার তমা আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রোববার বিকেলে আবু তাহেরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। তারা তমাকে নিয়ে তখন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। কথা হয় তাহেরের বৃদ্ধা মা আনোয়ারার সঙ্গে।

সুস্থভাবে বেচে থাকা একমাত্র নাতি তৃণাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আবু তাহেরের তিন মেয়ে আর এক ছেলে ছিল। ‘ভাইগ্য বালা তৃণামণি কোচিং’ও আছিল, নাইলে ইজ্জারে (তৃণাকেও) হাইতাম না, টেরাকের চাপায় চলি যাইতো।’ বলতে বলতে কেদেঁ দেন নাতি হারানো শোকে বিধ্বস্ত আনোয়ারা।

বৃদ্ধা জানান, আবু তাহেরের বড় মেয়ে ১৪ বছরের তৃশা স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন নয়। এরপর দু’বছরের ছোট তৃণা। তার দু’বছরের ছোট ছিল তমা।

দুর্ঘটনায় আহত তমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকায়। আর একমাত্র ছেলে নিহাদ একই দুর্ঘটনায় আজ পৃথিবী থেকে অনেক দূরের পথে পাড়ি জমিয়েছে।

তিনি জানান, তৃণা, তমা, নাহিদ তিন ভাই বোনই নাথের পেটুয়া মডার্ণ স্কুলের শিক্ষার্থী। প্রতিদিন সকালে স্কুল ভ্যানে করে এক সঙ্গে তিন ভাই বোন স্কুলে যায়। তবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী হওয়ায় স্কুল শেষে কোচিংয়ে যায় তৃণা। আর সে কারণেই শনিবার ছোট ভাই-বোনদের সঙ্গে স্কুল ভ্যানে ওঠা হয়নি তার।

নাতনিকে জড়িয়ে ধরে আনোয়ারা বলেন, “ভাইগ্য বালা, নাইলে তৃণারেও হাইতাম (পেতাম) না।”

নিহাদের বড় বোন তৃণা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ছোট ভাই হাসিবুল হাসান নিহাদের মৃতদেহ কবর দিয়ে বাবা মা থাকতে পারেনি বাড়িতে। কুমিল্লা হাসপাতালে তখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে ছোট বোন তমা। রোববার সকালে তমাকে নিয়ে ঢাকায় রওনা দিয়েছে বাবা-মা।

সানজানা তাহের তৃণা তার ছোট বোন তমার সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছে সবার কাছে।

মার্চ ১৮, ২০১৩

শেয়ার করুন