স্পোর্টস ডেস্ক চিরপরিচিত সবুজের বদলে স্মিথ-ডি ভিলিয়ার্সদের গায়ে গোলাপি পোশাক। গোলাপি রঙের দর্শক, বিজ্ঞাপনী বোর্ড-হোর্ডিং, ব্যানার গোলাপি রঙের, চারপাশটাই গোলাপি। স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ওয়ান্ডারার্স কাল যেন গোলাপি ভুবন। শুধু আবহে নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘পিংক ডে’ উদ্যাপন করল মাঠের ক্রিকেটেও।
ডি ভিলিয়ার্স-আমলার সেঞ্চুরি ও বিশ্ব রেকর্ড জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে তুলে দিয়েছিল রানপাহাড়ে। শহীদ আফ্রিদির ৪৮ বলে ৮৮ রানের ঝড় পাকিস্তানকে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিতে পারেনি। সাড়ে ছয় শ রানের ম্যাচ ৩৪ রানে জিতে সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটায় কিন্তু এমন ঝড়ের আভাস ছিল না। বরং পাকিস্তানের দুই পেসার ইরফানের বাউন্স ও জুনাইদের সুইংয়ে সুবিধাই করতে পারছিলেন না প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ১০ ওভারে ‘ডট’ বলই ছিল ৪৮টি, রান মাত্র ২৬! আগের ম্যাচের নায়ক ইরফান কালও শুরুতেই তুলে নেন গ্রায়েম স্মিথ ও কলিন ইনগ্রামকে। ১৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ২ উইকেটে ৫১। হাশিম আমলার সঙ্গে এবি ডি ভিলিয়ার্স যোগ দিয়েই পাল্টে দেন দৃশ্যপট। পাল্টা-আক্রমণে দুজন দিশেহারা করে ছাড়েন পাকিস্তানি বোলারদের।
৫৩ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া আমলা একাদশ ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৯৯ বলে। ১৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছুঁতে ডি ভিলিয়ার্সের লেগেছে ৮৭ বল। ২৩৮ রানের জুটি ভেঙে দিয়েছে তৃতীয় উইকেট জুটির ১৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড। বাবার মৃত্যুশোক সামলে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ১৪০ রানের ইনিংসটার পথে শচীন টেন্ডুলকার ২৩৭ রানের জুটি গড়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ১১৩ বলে ১২২ করে আউট হন আমলা, ১২ চার ও ৩ ছয়ে ১০৮ বলে ১২৮ ডি ভিলিয়ার্স। পরে ফ্যাফ ডু প্লেসিসের ১৯ বলে ৪৫ দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দেয় ৩৪৩। চোটের কারণে ইরফান মাঠ ছাড়ায় শেষ দিকে ভুগেছে পাকিস্তান, শেষ ১৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ১৫৬।
ওপেনিংয়ে হাফিজের ৪৯ বলে ৫৭ রানের পরও রানচাহিদার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি পাকিস্তান। ৫ চার ও ৭ ছয়ে আফ্রিদির ইনিংসটা বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে, তবে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সংশয় জাগিয়েছে সামান্যই। বল হাতে ১০ ওভার ৯৩ রান দেওয়া ওয়াহাব কিছুটা পুষিয়েছেন পরে ৪৫ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৪৩/৫ (স্মিথ ৩, আমলা ১২২, ইনগ্রাম ১৭, ডি ভিলিয়ার্স ১২৮, ডু প্লেসিস ৪৫, বেহারডিয়েন ৬*, ম্যাকলারেন ০*; ইরফান ২/৩৪, ওয়াহাব ২/৯৩, আজমল ১/৬২)। পাকিস্তান: ৪৮.১ ওভারে ৩০৯ (জামশেদ ১০, হাফিজ ৫৭, আকমল ৩০, ইউনুস ১৯, মিসবাহ ২৮, শোয়েব ৪, আফ্রিদি ৮৮, ওয়াহাব ৪৫, আজমল ৮, জুনাইদ ৯, ইরফান ০*, ম্যাকলারেন ৩/৫৬, সতসোবে ৩/৭৪, পিটারসন ২/৫১, স্টেইন ১/৪৮, ক্লেইনভেল্ট ১/৭৭)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৪ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডি ভিলিয়ার্স ও আমলা।
(১৮ মার্চ): নিউজরুম









