স্পোর্টস ডেস্ক আর মাত্র ১১টা রান! আর মাত্র ১১টা রান! এটা জপ করতে করতে নেমেছিলেন কাল সকালে। আগের রাতেও ওই ‘১১’ সংখ্যাই ঘুরপাক খেয়েছে মাথায়। সেটিই কি সর্বনাশটা করল? দেশের পক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না!
মোহাম্মদ আশরাফুল দোষ দিচ্ছেন প্রথম বলটাকে। রিভার্স প্যাডল মতো করতে চেয়েছিলেন, বল প্যাডে লাগল। কাল রাতে টেলিফোনে আশরাফুল বললেন, ‘আগের দিন এই শটটা অনেকবার মারতে ইচ্ছা করছিল। মারিনি। কাল দেখলাম, অনসাইডে সাতজন আর অফসাইডে দুজন। এমন ফিল্ড প্লেসিংয়ে দিলশান সাধারণত মিডল-লেগে বল করে। আমি তাই আগে থেকেই ওই শটটা মারব ঠিক করেছিলাম। কিন্তু বলটা পড়ল লেগ স্টাম্পে।প্যাডে লাগায় আপিলও হলো। ওটাই আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল—তাহলে বোধ হয় হবে না।’
যে শটটা খেলে আউট হয়েছেন, সেটির মূলেও ওই ভয়ই কাজ করেছে, ‘আমি একটু ভয়ে ভয়ে মেরেছি। নইলে বলটা ঠিকই ব্যাটে লাগত।’ আশরাফুলের এখন মনে হচ্ছে ডাবল সেঞ্চুরিটার জন্য এত বেশি ব্যগ্র প্রতীক্ষা ছিল যে সেটিই বড় চাপ হয়ে গেছে, ‘বাসা থেকেও সবাই বলছিল, আর ১১টা রান করতেই হবে। কেউ না বললেই বা কী, ১৮৯ রানে অপরাজিত থাকার পর ডাবল সেঞ্চুরির কথা তো মাথায় ঘুরবেই।’
আউট হয়ে যাওয়ার পর থেকে আরেকটা আফসোসও হচ্ছে তাঁর, ‘এখন মনে হচ্ছে, একটু চেষ্টা করলেন কালই (পরশু) ডাবল সেঞ্চুরিটা হয়ে যেত। বোকামিই করেছি।’
১৯০ রানে আউট হয়ে যাওয়ার ওই মুহূর্তটা অনেক দিনই হয়তো মনে ফিরে ফিরে আসবে।তবে আশরাফুল রাতে ‘শূন্য রানের চেয়ে তো ১৯০ ভালো’ ভেবে সান্ত্বনা খুঁজতে চাইলেন। তিনি না পারলেও মুশফিকুর রহিম পেরেছেন। তাঁকে অভিনন্দনও জানাচ্ছেন, ‘আশা করেছিলাম, আমরা দুজনই ডাবল সেঞ্চুরি করব। ও পেরেছে। অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।’
(১২ মার্চ): নিউজরুম









