বিরোধী দলের সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশের বেপরোয়া গুলি এ ধরনের আচরণ গণতন্ত্র ও মানবতাবিরোধী

0
111
Print Friendly, PDF & Email

৮ মার্চ, ২০১৩।।

বর্তমান সরকার বিরোধী দলের মিছিল-সমাবেশের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার বিষয়টিকে এক ধরনের বৈধতা দিয়ে বসেছে। গত কয়েক দিনের সরকারবিরোধী হরতাল, বিক্ষোভ ও সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যার বিষয়টিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর পুলিশ যেন এ ব্যাপারে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে গত বুধবারে নয়াপল্টনে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে আগ্রাসী পুলিশ বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে সমাবেশ পণ্ড করে দেয়ার ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসচিব আব্দুস সালামসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় পাঁচজন সাংবাদিকও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় একজন বিএনপি কর্মী হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।

উল্লেখ্য, গত পরশু বিকেলে নয়াপল্টনে চলছিল বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ। এ সমাবেশে আসা মিছিলে ও সমাবেশে বিনা উসকানিতে পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি চালিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে দেয়। এ সময় নয়াপল্টন ও আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভেও গুলি চালায় পুলিশ। এতে দলটির কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়াসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী গতকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে। এরও আগে বিএনপি এই সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ তাণ্ডব চালিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড করে দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল সারা দেশে দিনব্যাপী হরতাল ডাকে। পরে বিএনপির ডাকা এ হরতাল ১৮ দলীয় জোটের হরতালে রূপ নেয়। তা ছাড়া গত পরশু বিকেলের এই ঘটনার পরপর সারা দেশে বিএনপি বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। গতকালের হরতাল পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে পরিকল্পিতভাবে তাদের সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। তার অভিযোগ, এর নির্দেশদাতা সরকার। তিনি আরো অভিযোগ করেন, সরকারের নির্দেশে এ সময় র‌্যাব ও পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ একজোট হয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, আর ফিরে দেখার কিছু নেই। কঠিন ও চূড়ান্ত প্রতিরোধে সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া মানুষের আর গত্যন্তর নেই। এ দিকে বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত পরশু রাতে জোট নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেখানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কারণ তারা মনে করেন, আঠারোদলীয় জোট এত দিন ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নো রিটার্ন পয়েন্টে চলে যাচ্ছে। কারণ, সরকারপক্ষ বিরোধী দল দমনে দিন দিন কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান করছে। বিরোধী দলের বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অব্যাহতভাবে মানুষ হত্যা সরকার সময়ের সাথে জোরদার করে চলেছে। পুলিশের সর্বসাম্প্রতিক ভূমিকাকে সরকারের শীর্ষপর্যায়ে থেকে জোরালোভাবে সমর্থন করে মানুষ হত্যার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো হচ্ছে।

সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সত্যি সত্যিই দেশ আজ এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি  এসে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট থাকছে না। আন্তর্জাতিক মহল থেকে দেশে গৃহযুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিরোধী দল দমনে সরকারের অনমনীয় মনোভাব এর জন্য দায়ী। সরকার যদি দ্রুত এই অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে সঙ্ঘাত-সংঘর্ষ আর বিপর্যয় অত্যাসন্ন। এই বিপর্যয় কোনো বাছ-বিচার ছাড়া দহন করবে দেশের সব মহলকে। সবার আগে পুড়বে দেশের অর্থনীতি। সেই সাথে রাজনীতি আর রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট জনেরাও। জনগণের ভাগ্য যোগ হবে আরো দুর্ভোগ।

শেয়ার করুন