স্পোর্টস ডেস্ক: জয়ানন্দ বর্ণবীরা দিব্যি কেটে বলছেন, এটি হবে ব্যাটিং উইকেট। ‘মিথ্যা কথাবলে লাভ নেই। মুরালি যত দিন ছিল, চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব স্পিনিং উইকেটবানাতে। এখন মুরালি নেই, স্পিনিং উইকেট বানিয়ে কী লাভ?’ শ্রোতার মুখেঅবিশ্বাসের ছায়া দেখেও বলে গেলেন গল স্টেডিয়ামের কিউরেটর।
মুত্তিয়ামুরালিধরন নেই। কিন্তু রঙ্গনা হেরাথ তো আছেন। মুরালিধরন অবশ্যই নন। তবেমুরালির মতোই গলের এই মাঠ তাঁর প্রিয় মৃগয়াক্ষেত্র। গলে মুরালিধরনের ১৫টেস্টে ১১১ উইকেট, গড় মাত্র ১৮.৫০। শেষ টেস্ট এখানে, ৮০০তম উইকেটও। এই মাঠেযে মুরালির কোনো মূর্তি-টুর্তি নেই, এটাই বিস্ময়কর।
মুরালির রেকর্ডছোঁয়া কঠিন। বরং বলা ভালো, প্রায় অসম্ভব। কিন্তু মুরালি-উত্তর যুগে গলে যেচারটি টেস্ট ম্যাচ হয়েছে, তাতে রঙ্গনা হেরাথের রেকর্ড তো মুরালির চেয়ে কোনোঅংশে কম নয়। ২০.৩০ গড়ে ৬৬ উইকেট। সর্বশেষ দুই টেস্টে সংখ্যাটা ২৩।
মুরালিরসময়ে উইকেট হয়তো একটু বেশিই স্পিনবান্ধব করার চেষ্টা হতো। তবে গলেরউইকেটের চরিত্রই এমন যে, সেই চেষ্টা না করলেও তাতে খুব একটা পার্থক্য হয়না। প্রথম দুই দিনই ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ। তৃতীয় দিন থেকেই এ উইকেট ভাঙতেশুরু করবে। কাল টেস্ট-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিমের কথা থেকেওপরিষ্কার, টসে জিতলে কী করবেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে একটুও ভাবতে হচ্ছেনা। গলের ব্যবস্থাপত্র যে পরিষ্কার—টসে জিতে চোখ বুজে ব্যাটিং করো। এখানেচতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা আর সাঁতরে পাশের ভারতীয় মহাসাগর পাড়ি দেওয়ারচেষ্টা করা প্রায় সমার্থক।
গল স্টেডিয়ামের পাশে ডাচদের নির্মিত দুর্গটারসঙ্গে এই মাঠের একটা উপমা খুব খেটে যায়। এই মাঠ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটেরদুর্গ, ২১ বারের চেষ্টায় যা মাত্র চারবার জয় করতে পেরেছে প্রতিপক্ষ।বাংলাদেশের জন্য অবশ্য শ্রীলঙ্কায় মাঠ-টাঠে খুব একটা আসে-যায় না। এর আগেএখানে আটটি টেস্ট খেলে সব কটিতেই পরাজয়। সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য বলতেকোনোটা শোচনীয়, কোনোটা শোচনীয়তর। তার পরও এবার বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মুখে‘একটা কিছু করে ফেলতে পারি’ জাতীয় কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। কারণটা কিশ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের এলোমেলো অবস্থা?
চুক্তি নিয়ে বোর্ডের সঙ্গেখেলোয়াড়দের যে মহা ঝামেলা লেগেছিল, সেটি আপাতত মিটে গেলেও খেলোয়াড়দের মনে‘ন্যায্য পাওনা’ কেড়ে নেওয়ার ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। তবে সেটি না বাংলাদেশেরজন্য আরও ভীতিকর রূপ নিয়ে দেখা দেয়। বোর্ডের সঙ্গে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্তক্রিকেটারদের অস্ত্র তো ব্যাট আর বলই। মৃদুভাষী অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস যদিনা-ও বলেন, এটা মনে করিয়ে দিয়ে খেলোয়াড়দের তাতিয়ে দিতে কুমার সাঙ্গাকারা তোআছেন।
বাংলাদেশ শিবির থেকে একটা কথা খুব বলা হচ্ছে। এই প্রথম শ্রীলঙ্কাসফরে প্রতিপক্ষ দলে বড় বড় নাম নেই। মুরালিধরন-ভাসের কথা ঘুরেফিরে আসছে।মাহেলা জয়াবর্ধনেও নেই। ভাস অবশ্য আছেন, তবে বোলিং কোচের ভূমিকায়। কালসকালে অনুশীলন শেষে বেরিয়ে যেতে যেতে বাংলাদেশকে আগের চেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষবলেই মানলেন। ক্রিকেটীয় ভদ্রতা? এমন মনে হতে পারে ভেবেই ২০০৩ বিশ্বকাপেপ্রথম ওভারেই ৪ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি পেসার যোগ করলেন, ‘এবার আমাদের দলেও তোঅনেক তরুণ ক্রিকেটার।’
কিন্তু বাংলাদেশের সমস্যা তো আরও বড়। এমনিতেই এইসফরে প্রথম পছন্দের তিন-চারজন ক্রিকেটার নেই। এখানে আসার পরও তাড়িয়েবেড়াচ্ছে চোট। এতটাই যে, কাল রাতেও ঠিক হয়নি, পরদিন কোন ১১ জন মাঠে নামবে।নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কথা সত্যি হলে মার্শাল আইয়ুব ছাড়া ১৪ জনেরইসম্ভাবনা আছে এই টেস্টে খেলে ফেলার।
তামিম ইকবালের ব্যাপারে চূড়ান্তসিদ্ধান্ত আজ সকাল পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কাল হাতের এক্স-রে করিয়েঅস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদ ডেভিড ইয়াংকে আবার দেখিয়েছেন তামিম। তা দেখেটেখে ইয়াংএকটা ইনজেকশন দিয়েছেন। টসের আগ পর্যন্ত সেটির প্রভাব দেখে তারপরসিদ্ধান্ত। তামিম খেললে সম্ভবত জহুরুলই তাঁর ওপেনিং সঙ্গী হবেন। না খেললেনামতে হবে দুই ‘নতুন’ ওপেনারকে নিয়ে। এনামুলের তো অভিষেকই হবে, জহুরুলও এরআগে টেস্টে কখনো ওপেন করেননি।
রুবেল হোসেন যোগ হয়েছেন নতুন সমস্যাহিসেবে। কাল পিঠে ব্যথা অনুভব করেছেন। দুই পেসার-দুই স্পিনার ছক চূড়ান্ত।তবে কোন দুই পেসার—সেটিও কাল রাত পর্যন্ত মহা অনিশ্চয়তায় ঢাকা ছিল। একাদশনিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে লুকোচুরি খেলার কোনো ব্যাপার থেকে থাকলে ভিন্ন কথা, নইলে এটিকে কোনোমতেই টেস্ট ম্যাচের আগের রাতের আদর্শ পরিস্থিতি বলা যাচ্ছেনা।
মাঠে কী করণীয়, এটা বাংলাদেশ দল খুব ভালো জানে। কিন্তু করণীয়টা জানাএক কথা, আর সেটি মাঠে করা আরেক কথা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ওয়েস্ট ইন্ডিজসিরিজের উদাহরণ দিয়ে বললেন, ‘ওই সিরিজে আমরা টানা ভালো খেলতে পারিনি। এখানেপাঁচ দিন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে চাই।’ এই মাঠে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচেতিন দিনে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। পাঁচ দিন খেলাটা তাই বড় চ্যালেঞ্জই। সেইচ্যালেঞ্জে জিততে করণীয়টাও বলে দিলেন নাসির হোসেন, ‘ব্যাটিং ভালো করতে হবে।প্রথম ইনিংসে কমপক্ষে চার শ, দ্বিতীয় ইনিংসে তিন শ। দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত শরান করতে হবে।
কাজটাকে কঠিন বললে কম বলা হয়!
আজ শুরু প্রথম টেস্ট
সকাল ১০-৩০ মি. থেকে সরাসরি দেখাবে মাছরাঙা ও টেন ক্রিকেট









