আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:‘চাভেজ আমাদের বাবা, আমাদের মুক্তিদাতা। কেউ-ই তাঁর এই নিয়তি আশা করেন না। তিনি বেঁচে আছেন!’ চাভেজের তরুণ বয়সের একটি ছবি হাতে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন কার্লোস পেরেজ। পেরেজের মতো শত শত মানুষ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক হাসপাতালের সামনে প্রিয় নেতার জন্য এভাবে কাঁদছেন, বিলাপ করছেন। বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক নেতা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ গত মঙ্গলবার এ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রায় দুই বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে হার মানলেন চাভেজ। গত ১১ ডিসেম্বর চতুর্থ দফা অস্ত্রোপচারের পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। কিউবায় চিকিৎসা শেষে গত মাসে দেশে ফেরেন চাভেজ। তবে চতুর্থ দফা অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ১৯৯৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।
চাভেজের মরদেহ দেশটির সামরিক একাডেমিতে রাখা হবে। কাল শুক্রবার তাঁর শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা যোগ দেবেন। চাভেজের মৃত্যুতে ভেনেজুয়েলায় সাত দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো সামরিক হাসপাতালের সামনে চাভেজের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তা প্রচার করা হয়। মাদুরো জানান, স্থানীয় সময় বেলা চারটা ২৫ মিনিটে চাভেজ মারা গেছেন। প্রায় দুই বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেলেন তিনি। এ সময় জনগণকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানান মাদুরো। জাতির প্রতি কঠিন এ খবরটি জানানোর সময় দেশ পরিচালনায় চাভেজের দীর্ঘদিনের সহযোগীরা মাদুরোর পাশে ছিলেন। মাদুরোর বক্তৃতা শেষ হলে সবাই ‘চাভেজ দীর্ঘজীবী হোন’ বলে স্লোগান দেন। এর আগে হাসপাতালে ভেনেজুয়েলার পতাকা অর্ধনমিত করা হয়।
চাভেজের মৃত্যুর খবর জানানোর কিছুক্ষণ আগে ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন দুই সামরিক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেন মাদুরো।তিনি অভিযোগ করেন, ভেনেজুয়েলার শত্রুরা কোনোভাবে চাভেজের শরীরে ক্যানসারের জীবাণু ঢুকিয়েছেন। সেই জীবাণু কুরে কুরে খেয়েছে মহান এই নেতাকে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিয়াস হয়া জানান, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দেশের অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নেতা চাভেজ এই নির্দেশ দিয়ে গেছেন।’ তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডিয়েগো মোলেরো বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নেতা চাভেজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাবে।
গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চাভেজের কাছে পরাজিত বিরোধী দলের নেতা হেনরিকে ক্যাপ্রিলেস বলেন, এটা বিরোধিতার সময় নয়। একতা আর শান্তি ধরে রাখার সময়। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম, কিন্তু কখনোই শত্রু ছিলাম না।’
লাতিন আমেরিকা তথা বিশ্বের অন্যতম স্পষ্টবাদী নেতা ছিলেন চাভেজ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর সমালোচক ছিলেন তিনি।তাঁর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভূমিকা বিশ্বে তাঁকে দারুণ জনপ্রিয় করে তোলে।
চাভেজের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের উন্নতি হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অবশ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে নাটকীয় কোনো উন্নতি আশা করছেন না। এএফপি, বিবিসি ও সিএনএন।
৭ মার্চ/নিউজরুম









