স্পোর্টস ডেস্ক:রিয়াল ২, ইউনাইটেড ১
সামগ্রিক ফলে ৩-২ গোলে জিতে শেষ আটে রিয়াল
শঙ্কাটাই সত্যি হলো। আবারও সেই রোনালদোতেই সর্বনাশ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। তবে এই রোনালদো সেই রোনালদো নন। এবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসে ইউনাইটেডকে কাঁদিয়ে গেল তাদেরই ‘ঘরের ছেলে’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
২০০২-০৩ মৌসুমে ইউনাইটেডকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান রোনালদো। ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে রিয়াল মাদ্রিদকে তুলে দিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। না, ক্রিস্টিয়ানো হ্যাটট্রিক করেননি। করেছেন মাত্রই একটি গোল। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে শ্মশানের নীরবতা নামিয়ে আনতে সেই একটি গোলই ছিল যথেষ্ট।রোনালদোর গোলেই ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ইউনাইটেডকে বিদায়ের কান্নায় ভাসিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতা নিয়ে স্পেনের দলটি উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
দু-দুটি এল ক্লাসিকো জয়ের পর ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়। কী বিস্ময়কর একটা সপ্তাহই না কাটল রিয়ালের!
জয়ে ইউনাইটেডকে ছিটকে ফেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে রিয়াল, এটাই এখন বাস্তবতা। তবে রিয়ালের জয়টা একটু হলেও যেন প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও তাতে রিয়ালের কোনো দোষ নেই। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ডিফেন্ডার আলভারো আলবেলোয়াকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন নানি। রেফারির এই সিদ্ধান্ত ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অ্যালেক্স ফার্গুসন তো হতবিহ্বল। নানির এই লাল কার্ডই যে ঘুরিয়ে দিয়েছে ম্যাচের মোড়, এমনকি ম্যাচের ভাগ্যও।
সত্যিই তা-ই। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করায় কিছুটা হলেও চাপে ছিল রিয়াল। পরশু গোলশূন্য ড্র হলেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যেত ইউনাইটেড। সেখানে ৪৮ মিনিটে সার্জিও রামোসের আত্মঘাতী গোলে ফার্গুসনের দল এগিয়েও যায়।নানিরই গোলমুখে বাড়ানো বল রামোসের পায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে! এর ৮ মিনিট পরই নানির লাল কার্ডে ১০ জনের দল হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। রিয়াল সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে দারুণভাবে। নানির লাল কার্ড দেখার ১৩ মিনিটের মধ্যে ২ গোল দিয়ে বসে।
৬৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক প্রচেষ্টায় রিয়ালকে সমতায় ফেরান বদলি হিসেবে নামা লুকা মডরিচ। তিন মিনিট পরই হিগুয়েইনের ক্রস থেকে এগিয়ে দেন রোনালদো। এ অবস্থায় কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে ইউনাইটেডকে করতে হতো আরও ২ গোল। কিন্তু মরিয়া চেষ্টা করেও পারেনি ইউনাইটেড। ম্যাচের শুরুতেই একটা চমক দেন ফার্গুসন। বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন রুনিকে। তাঁর জায়গায় রায়ান গিগস পেশাদার ক্যারিয়ারের ১০০০তম ম্যাচটি খেললেন শুরু থেকেই। পরে অবশ্য রুনিকে নামিয়েছিলেন কোচ। কিন্তু কাজ হয়নি। এএফপি, রয়টার্স।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ ফার্গুসন সংবাদ সম্মেলনেই আসেননি। ইউনাইটেডের সহকারী কোচ মাইক ফেলান বলেছেন, ড্রেসিংরুমে সবাই হতাশ, কোচ হতভম্ব। রিয়ালের কোচ হোসে মরিনহোও অকপটে স্বীকার করেছেন, ম্যাচে ইউনাইটেডই ছিল সেরা দল, ‘লাল কার্ডের ব্যাপারটা যদি বাদও দিই, তার পরও সেরা দলটাই হেরেছে। জয়টা আমাদের পাওনা ছিল না। আমরা ভালো খেলতে পারিনি।’
দিনের অন্য ম্যাচে শাখতার দোনেৎস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ডর্টমুন্ড। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির দলটি।
৭ মার্চ/নিউজরুম









