রোবট দিয়ে যুদ্ধ

0
62
Print Friendly, PDF & Email

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের মতো চালকবিহীন বিমানের কার্যকারিতার সঙ্গে আগেই সবাইপরিচিতএ ছাড়া তিরের মতো চোখা মাথাওয়ালা এক্স-৪৭বি আকাশযান নিজে নিজেইঅবলীলায় উড়ে গিয়ে মিশন শেষ করে ফিরে আসতে পারেড্রোনের ভেতর কোনো চালক নাথাকলেও নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাইলট সেটি চালানকিন্তু এক্স-৪৭বি চালাতে সেধরনের পাইলটেরও দরকার পড়ে না
এ ছাড়া রয়েছে একপ্রকার ক্ষেপণাস্ত্রপদ্ধতি যেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারেযেমন: প্যাট্রিয়টের মতোক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও তাকে ধ্বংস করতেসক্ষমযুদ্ধক্ষেত্রে এমন সব উকর্ষ এখনো আকাশপথেই সীমাবদ্ধ রয়েছেস্থলপথের যুদ্ধ নিয়ে কী ভাবছেন বিজ্ঞানীরা? পরিপূর্ণভাবে অস্ত্রে সজ্জিতরোবট-যোদ্ধা? আসলে তা নয়সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়তো অনেক সময় লাগবে
তবেযুদ্ধক্ষেত্রে রোবট-যুগ আনতে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা তোড়জোড় চালাচ্ছেন, এটাঅস্বীকার করার উপায় নেইযুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অবটেকনোলজির অধ্যাপক হেনরিক ক্রিস্টেনসেন তাঁদেরই একজন
ইনস্টিটিউটেরগবেষণাগারে ক্রিস্টেনসেনের রোবটগুলো এখন হন্যে হয়ে জঙ্গি খুঁজে ফিরছেঅদূরভবিষ্যতেই হয়তো এই রোবটগুলোর উত্তরসূরিরা অস্ত্রে সজ্জিত হয়েআফগানিস্তানের মতো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেমে পড়বে
অধ্যাপকক্রিস্টেনসেন ও তাঁর গবেষক দলটি যে প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটিতেঅর্থায়ন করছে প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসতাদের মূল লক্ষ্যহচ্ছে, এমন সব মনুষ্যবিহীন যান তৈরি করা যেগুলো শত্রুর অবস্থানের মানচিত্রতৈরি করে দেবেএর ফলে মানবযোদ্ধারা নিরাপদ দূরত্বে থেকে কোনো ভবনে শত্রুরঅবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য পেয়ে যাবেন
এই প্রকল্পে শত্রুরঅবস্থান ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ওপরে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেতবেসেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধে সশস্ত্র রোবট-যোদ্ধার সম্ভাব্যতার কথাও বলাহয়েছেসম্ভাব্য সেই রোবটগুলো পঙ্গপাল বা অন্যান্য পোকামাকড়ের মতো আচরণকরবেযুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর উপস্থিতি দেখলেই এগুলো ঝাঁক বেঁধে চলবেরোবোটিক এই পোকাগুলোর প্রতিটি একটি করে ছোট ওয়্যারহেড বহন করবে এবং শত্রুরওপর আঘাত হানতে তার গতিশক্তি ব্যবহার করবে
ওয়াশিংটন ডিসির ব্রুকিংসইনস্টিটিউটের ভবিষ্য যুদ্ধবিগ্রহবিষয়ক বিশেষজ্ঞ পিটার ডব্লিউ সিঙ্গারবলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট-যোদ্ধাদের আগমন বেশ কিছু প্রগাঢ় প্রশ্নকে সামনেএনেছেযখনই কোনো নতুন প্রযুক্তি হাতে আসে, সেটা খেলা পরিবর্তনকারীহিসেবে আবির্ভূত হয়অতীতে বন্দুক, পরমাণু বোমা, কম্পিউটার ইত্যাদিরক্ষেত্রে সেটা ঘটেছেরোবট সে রকমই একটাতিনি বলেন, যখন বলা হয় এটা খেলাপরিবর্তনকারী, তার মানে মানুষ ময়দানে যেসব কৌশল ব্যবহার করে তার সবকিছুকেইপ্রভাবিত করেসেটা বাহিনী সংগঠিত করার মতো তত্ত্বগত বিষয় থেকে শুরু করেরাজনীতি, আইন, নৈতিকতার মতো বড় বড় প্রশ্নের সঙ্গে সম্পৃক্ত
১৯৯৭ সালেশান্তিতে নোবেলজয়ী আমেরিকান জোডি উইলিয়াম মনে করছেন, এসব স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিএকদিন প্রাণঘাতী বাহিনীর দিন শেষ করে দেবেতাঁর মতে, ‘স্বয়ংক্রিয়অস্ত্রপদ্ধতির মতো মূল্যবোধহীন প্রযুক্তি ব্যবহার অবশ্যই পরিত্যাগ করাউচিতবিবিসি

 

৫ মার্চ/নিউজরুম

 

শেয়ার করুন