রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সংঘর্ষে শিশু ও নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৭ জন। এ ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
জামায়াত-শিবিরের দু’দিনব্যাপী হরতাল শুরুর দিন রোববার সকালে গোদাগাড়ীর রত্না সিনেমা হলের মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মহিষালহাট জামে মসজিদের ইমাম মুজাহীদ (৪৮), রফিকুল (১৩), আলিম (৪০) ও অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী (২৭)। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন- মাওলানা সহিবুর (৪৫), আলমগীর, আশরাফুল, তোজাম্মেল, মোহাম্মদ আলী ও বাবু।
আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গোদাগাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলিম (৪০) মারা যায়।
আলিম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আলমের ভাই।ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলম তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহীর সিনিয়র এএসপি বেলায়েত হোসেন জানান, হরতাল চলাকালে মিছিল নিয়ে নাশকতা করার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) অহিদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও গুলি ছোড়ে।
এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। হতাহতের ঘটনায় উপজেলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দুপুর ১২টা থেকে উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, যে কোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
অপরদিকে হরতালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর ও নগরীর শালবাগানে হরতালকারীরা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও বিজিবি ওই এলাকায় যৌথ তল্লাশি চালিয়েছে।
মার্চ ০৩, ২০১৩






