পৈশাচিকতায় শিউরে উঠেছে দেশ সরকারি উদ্যোগে এ গণহত্যা চলতে পারে না

0
287
Print Friendly, PDF & Email

২ মার্চ, ২০১৩।।

বিশ শতেকের এই বাংলাদেশ আজ এক পৈশাচিকতায় শিউরে উঠেছে। বিুব্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি করে সারা দেশে এক দিনে ৭০ জনকে হত্যা করেছে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশবাহিনী। সরাসরি গুলি করে এভাবে পুলিশের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে এর আগে কখনো ঘটেনি। গোটা বাংলাদেশ এখন থমকে দাঁড়িয়েছে শোকে-দুঃখে। কেউ বুঝে উঠতে পারছে না কেন পুলিশকে পাখির মতো মানুষ শিকার করতে হলো। যাদের হত্যা করা হয়েছে, এরা কোনো দাগি আসামি নন; কিংবা নন কোনো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য। ঠিক সেই সময় এ ঘটনা ঘটল যখন নানা দাগি আসামি, খুনি, সন্ত্রাসী চক্রের কোনো বিচার হচ্ছে না বাংলাদেশে। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এরা। তাদের ধরতে কিংবা আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কসরত নেই। নিরপরাধ মানুষকে এভাবে গণহারে হত্যার নারকীয় উল্লাসকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে সারা দেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরা রাস্তায় নেমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের আবেগ প্রকাশের এটি একটি স্বাভাবিক রীতি। পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। এই বিক্ষোভ যদি অন্য কারো জীবনহানির কারণ হতো, তাহলে পুলিশ তাদের আটক করতে পারত। তাদের বিচারের আওতায় আনা যেত। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য মতে এ বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, এরা সবাই সাধারণ মানুষ। এরা যদি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্যদের হত্যা বা হামলার লক্ষ্যে রাস্তায় নামত তাহলে নিজেরা একচেটিয়া প্রাণ দিত না, অন্য অনেকের প্রাণও কেড়ে নিত। একই অবস্থা আমরা দেখে আসছি বেশ কিছু দিন ধরে। ধর্মের আবমাননার প্রতিবাদে আলেম-ওলামারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে চাইলে সেখানেও এ ধরনের পৈশাচিকতা চালানো হয়। আমরা দেখেছি, সেখানেও একতরফাভাবে আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের গুলিতে। পুলিশের ছত্রছায়ায় বিুব্ধ জনতার ওপর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ঝাঁপিয়ে পড়ছেন।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় যে লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, তাকে গণহত্যা ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না। সরকারি মদদ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের জনগণের বিরুদ্ধে এভাবে নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রশ্নই আসে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম এই নির্বিচার খুনকে নৃশংস গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, এ হত্যার নজির ’৭১ সালের হানাদার বাহিনীকে ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মাওলানা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই বর্তমান সরকারের পুলিশ, র‌্যাব ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী বহু সাধারণ মানুষ ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে হত্যা করে সারা দেশে এক নারকীয় তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে। এ হত্যা এতটাই চরমপর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই পৈশাচিক ঘটনায় অতীতের নির্মম ফ্যাসিস্ট শাসকেরাও লজ্জায় মুখ ঢাকবে। বারবার মানুষকে প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়ে তারা তাদের লুকানো বিষদাঁত বের করে। আর এই বিষদাঁতের দংশনে তারা মূলত জনগণকেই ক্ষতবিক্ষত করে। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এবং ক্ষমতাহীন আওয়ামী লীগের এ চিত্রটি যেন একেবারে স্পষ্ট।

সরকারের অপরিণামদর্শী হত্যালীলাকে বিবেকবান মানুষ নিন্দা না করে পারেন না। আমরা মনে করি, জঘন্য প্রতিহিংসা থেকে সরকার সরে আসবে। একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে যৌক্তিক আচরণ করবে। অন্যথায় এই নারকীয় কার্যকলাপে শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতাকারীরা নন, একসময়ে ক্ষমতাসীন দলসহ সবাইকে গ্রাস করবে। এখন হাতে সময় নেই; সরকারকে দ্রুতই রক্তাক্ত বাংলাদেশের ঘৃণা, প্রতিহিংসা, জিঘাংসাকে শান্ত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন