আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের জন্য লড়াইরত বিদ্রোহী যোদ্ধাদেরসরাসরি সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিলেও অস্ত্র সাহায্য দেবে না বলে নিশ্চিতকরেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এতে হতাশ হয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহী পক্ষগুলো।বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রোমে সিরিয়ার বিরোধী নেতাদেরসঙ্গে বৈঠকের পর সিরিয়ায় বিদ্রোহী বাহিনীর সমর্থনে সরাসরি খাদ্য এবংচিকিত্সা সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় বিরোধীপক্ষগুলোকে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মানবিক সাহায্য দিলেও দেশটির প্রেসিডেন্টবারাক ওবামা অস্ত্র দেয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্রজঙ্গিদের হাতে চলে গেলে সেগুলো পশ্চিমা স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতেপারে এই যুক্তিতে অস্ত্র দেয়ার বিরোধিতা করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এখন থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র ছাড়া সরাসরিসব ধরনের সাহায্য দেবে তারা। পাশাপাশি সিরিয়ার বেসামরিক বিরোধী দলগুলোরজন্য সাহায্য দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। সিরিয়ার জনগণের মধ্যেবিদ্রোহীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলাই এ সাহায্যের উদ্দেশ্য। এই সাহায্যেরমধ্যে চিকিত্সা উপকরণ সরবরাহ, বিদ্রোহী যোদ্ধাদের জন্য খাদ্য এবংবিরোধীপক্ষগুলোকে নিরাপত্তা, শিক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য ৬কোটি ডলার দেয়া হবে। রোমে ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’ গোষ্ঠীর বৈঠকের পরযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নতুন এসব পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণাদেন। ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’ গোষ্ঠী ১১ দেশের অধিকাংশই ইউরোপীয় ও আরবজাতিভুক্ত।
কেরি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো চিকিত্সা সামগ্রী এবংযুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জন্য দেয়া রেশন যা ‘তৈরি খাদ্য’ হিসেবেপরিচিত—বিদ্রোহীদের সরবরাহ করবে।
চলতি মাস থেকে ইউরেপীয় ইউনিয়ন ‘সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার লক্ষ্যে’ বিদ্রোহীদের সরাসরি সাহায্য পাঠানো শুরু করেছে। এসব সাহায্যের মধ্যেসাঁজোয়া যান, অস্ত্র ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য কৌশলগত সাহায্য।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, সতর্কভাবে বাছাই করা যোদ্ধারাই শুধুযুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পাবে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সহনশীলতাবিরোধী‘চরমপন্থী’ শক্তিগুলো সিরিয়ায় যে অবস্থান তৈরি করছে তা যুক্তরাষ্ট্রকেউদ্বিগ্ন করে তুলেছে বলে জানান তিনি। ইরান এবং হিজবুল্লাহর সমর্থনে সিরিয়ায়সশস্ত্র বাহিনীর চলমান নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপনিচ্ছে জানিয়ে কেরি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আসাদের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাকেক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সাহায্য সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিদ্রোহীদেরহাতকে শক্তিশালী করবে এবং তারা প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গড়ে তুলতে সক্ষম হবেবলে মন্তব্য করেছেন কেরি। কিন্তু লড়াই জয়ের জন্য সিরীয় বিদ্রোহীদের দাবিঅনুযায়ী তাদের অস্ত্র পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি বিদ্রোহীদের মাঝেহতাশা সৃষ্টি করেছে। প্রায় দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে শুরুহওয়া শান্তিপূর্ণ বিরোধিতা ক্রমে বিদ্রোহের রূপ নিয়ে গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিতহওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
২ মার্চ/নিউজরুম









