১ মার্চ, ২০১৩, চাকদের বর্ণমালা
সাবেকপ্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে অশেষ ধন্যবাদ। গত ৭ ফেব্রুয়ারিপ্রথম আলোয় প্রকাশিত চাক ভাষার ওপর তাঁর লেখাটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণকরেছে। লেখাটিতে বলা হয়েছে, ‘চাক ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই’। কথাটিঠিক নয়। চাকদের নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চাকবর্ণমালার চর্চা হচ্ছে না। চাক ভাষার উচ্চারণ, বাক্যগঠন, বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়াপদ বিচার করলে একে আর্য ভাষা পরিবারভুক্ত বলা যায়। তবে ভাষা-গবেষকেরাচাক ভাষাকে তিব্বতি-বর্মণ পরিবারভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
মং মং চাক, বান্দরবান।
লেখকের বক্তব্য
চিঠির লেখককে ধন্যবাদ।
একথা ঠিক যে ৭ ফেব্রুয়ারি চাক ভাষার ওপর প্রকাশিত আমার লেখায় চাক ভাষারবর্ণমালা সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পরিবেশিত হয়নি। কিন্তু সত্বরই সে ভুল ধরাপড়ার পর ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীরভাষা’ রচনায় সে ভুল সংশোধন করে আমি লিখেছি যে ‘চাক ও ম্রোদের দীর্ঘদিনকোনো বর্ণমালা ছিল না। এখন তারা নিজেদের উদ্ভাবিত বর্ণমালা ব্যবহার করছে।’
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
পাসপোর্ট
ফেব্রুয়ারি২০১৩-এর কোনো এক সকালে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসে গেলাম পাসপোর্ট করারউদ্দেশ্যে। সেদিন দেখতে পেলাম কিছুটা ভিন্ন পরিবেশ। একটি দেয়াললিখন দেখলাম।যা ছিল এ রকম, ‘কোনো দালালকে দেখামাত্র তার কথা ও ছবি রেকর্ড করে একটিনির্দিষ্ট কক্ষে জমা দিন’। দেখে খুশি হলাম। হয়তো বা পরিবেশ কিছুটাপাল্টেছে। যা হোক, ফরম পূরণ করে টাকা জমা দিয়ে সব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্নকরলাম। হয়রানির শিকার হলাম না।
কিছুদিন পরের কথা, একদিন অপরিচিত একটিনাম্বার থেকে ফোন এল এবং অজানা লোকটি আমাকে মালিবাগ থানার এসআই বলে পরিচয়দিলেন। এবং আমাকে সব সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপিসহ সংসদ ভবনেরপুলিশ বক্সে দেখা করতে বললেন। আমি পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য তাঁর সঙ্গে দেখাকরি। আমার সবকিছু শতভাগ ঠিক থাকা সত্ত্বেও তিনি আমার নানা ভুল ধরা শুরুকরলেন। একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে সরাসরি দুই হাজার টাকা উৎকোচ চেয়ে বসলেন।পরে এক হাজার টাকায় রফা হলো। বাকি ২০০ টাকা তাঁর মোবাইলে দেব বলে চুক্তিকরে এলাম।
এর সাত দিন পর আমার গ্রামের বাড়ির (মনপুরা, ভোলা) থানা থেকেএকটি ফোন এল। সেই ফোনটি ছিল জনৈক দারোগা সাহেবের। তিনি আমাকে থানায় দেখাকরতে বললেন আমার সব সনদসহ। যেহেতু আমি ঢাকায় থাকি, তাই আমার চাচাকেপাঠালাম। সেখানেও চাচার কাছে উৎকোচ চেয়ে বসলেন। কিন্তু কেন? তা না হলে আমারবিরুদ্ধে রিপোর্ট দেওয়া হবে। অবশেষে এক হাজার টাকায় এই পর্বও শেষ হলো।
তাহলেএখন একটু হিসাব করি। সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে পেল তিন হাজার টাকা, যেটাসম্পূর্ণ বৈধ। এরপর মালিবাগ থানার এসআই সাহেবকে নগদ দিলাম ৮০০, ফোনে দিলাম২০০। দারোগা সাহেবকে দিলাম এক হাজার। মোট ৩০০০+৮০০+২০০+১০০০=৫০০০ টাকা।
ভাবতে পারেন, আমাদের নৈতিকতা কোথায় গেছে।
পাসপোর্টঅফিসের দালালদের হাত থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে প্রশাসন আমাদের এ কোন দালালদেরহাতে ছেড়ে দিল। হয়রানির কি কোনো দিনও শেষ হবে না? ট্রান্সপারেন্সিইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী এবারও দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখলকরে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ চিঠিপত্র কলামে ছাপানো আমারএই লেখা কোনো দিন কারও কাজে আসবে না। কিন্তু একটু ভেবে ভালো লাগছে, নিজেরতিক্ততা প্রকাশ করতে পারলাম। বদলে যাও বদলে দাও।
কীভাবে বদলাব, বলুন।
মো. শাকিল
অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
পরীক্ষার সময়সূচি
দেশেরসব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানেরপরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এটি একটিগুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপেই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবন নির্ভর করে। তাইএইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি একজন শিক্ষার্থীর কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু প্রকাশিত সময়সূচিতে দেখা গেছে, কিছু কিছু বিষয়ের পরীক্ষার আগে কমসময় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অধিকন্তু সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে হলেকেবল সাজেশনের আলোকে পড়া যায় না। এর জন্য সমগ্র বইয়ের আগাগোড়া ভালোভাবে পড়াপ্রয়োজন; তাই রসায়ন দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার আগে আরও তিন চার-দিন বন্ধ থাকাআবশ্যক। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার আগেও কিছুদিন বেশি থাকাদরকার। কারণ, এতে তত্ত্বীয় বিষয় ছাড়াও গণিতের অনেক অনুশীলন রয়েছে। এইচএসসিপরীক্ষার ফলাফলের ওপর একজন শিক্ষার্থীর পরবর্তী শিক্ষা অর্জন এবং কর্মজীবনসরাসরি নির্ভরশীল। তাই উল্লিখিত বিষয়ের সাপেক্ষে পরীক্ষার সময়সূচিতেপরিবর্তন আনা উচিত বলে আমি মনে করি।
এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লুবাবা আলম
নোয়াখালী সরকারি কলেজ
কলেজ রোড, নোয়াখালী।






