কুড়িগ্রাম পৌরসভার সেবার মান যাচাইয়ে সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ

0
222
Print Friendly, PDF & Email

কুড়িগ্রাম:  কুড়িগ্রাম পৌরসভার সেবার মান যাচাইয়ে ‘সিটিজেন্স রিপোর্ট কার্ড’ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় বুধবার। সনাক-টিআইবি ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এ জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়। কুড়িগ্রাম পৌর সভার ই-তথ্য কেন্দ্র অকার্যকে হওয়ায়।

এ সম্পর্কে মানুষের ধারনা নেই বললেই চলে। পৌর সভার রাস্তাঘাট, রোড লাইট, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা. নিরাপত্তা, ত্রাণ প্রাপ্তি নিয়ে সেবা গ্রহীতাদের অসন্তুষ্টি বেশী। মশা ও কুকুর নিধনের কার্যক্রম মন্থর হওয়ায় মানুষের অসন্তুষ্টির মাত্রা বেরেছে। পাশাপাশি ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের গবেষণা চলাকালীন সময়ের মধ্যে সেবার মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জরিপে দেখা যায় ময়লা আবর্জনা অপসারণ, স্যানিটারী ল্যাট্রিন, জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, কর প্রদান, ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সেবার মান বেড়েছে। তবে তা এখনও কাঙ্খিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

সনাক সভাপতি মো: শাহাবুদ্দিন এর সভাপতিত্বে সনাক-টিআইবি ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে পৌর মেয়রের সভাকক্ষে বুধবার দুপুরে উক্ত জরিপ কার্ড প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রদিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্স এবং পলিসি) মো. গোলাম মোস্তফা। ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো পৌরসভার প্রদত্ত সেবা কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সেবার সার্বিক মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা। একই সাথে পৌরসভার সার্বিক সেবা কার্যক্রম, পৌরসভার কাছে জনগণের প্রত্যাশা এবং পৌরসভার সেবায় জনগণের সন্তুষ্টির মাত্রা নিরূপন এই গবেষণার একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়। গবেষণার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ হলো পৌরসভা কর্তৃক প্রদত্ত সেবার মান ও সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি যাচাই করা। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষেত্র ও ধরন চিহ্নিত করা, পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সেবা প্রদানে সীমাবদ্ধতাসমূহ চিহ্নিত করা এবং পৌরসভার সেবার মানোন্নয়নে সুপারিশ প্রদান করা। ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের গবেষণা চলাকালীন সময়ের মধ্যে সেবার মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জরিপে দেখা যায় ময়লা আবর্জনা অপসারণ, স্যানিটারী ল্যাট্রিন, জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, কর প্রদান, ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সেবার মান বেড়েছে। অন্যদিকে পনি সরবরাহ, রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, ত্রাণ প্রাপ্তি এবং আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সেবার মান কমেছে।  তবে এসব পরিবর্তন আরো ত্বরান্বিত করা এবং অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে টিআইবি’র সহায়তায় সনাক কুড়িগ্রাম ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

গবেষণাটিতে গুণগত ও পরিমাণগত উভয় পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে। দৈবচয়ন নমুনায়ন পদ্ধতিতে ৯টি ওয়ার্ডের ৫১২টি হোল্ডিং-এ ২০১১ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ৫১২ জন সেবাগ্রহিতার উপর প্রশ্নপত্র জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৫৬টি হোল্ডিং-এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রথমে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড মানচিত্র একে ভৌগলিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডগুলোর অন্তর্ভুক্ত পাড়া/মহল্লাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পাড়া/মহল্লাগুলোর উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত হতে জরিপ শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও দলীয় আলোচনা, মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার, প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানের ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও রিভিউ করা হয়েছে।

সিটিজেন্স রিপোর্ট কার্ড জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশের পর  পৌরসভার সেবার মানউন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র নুর ইসলাম নুরু, সনাকের স্থানীয় সরকার উপ-কমিটির সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নীলু, টিআইবি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আল-আমীন মিয়া, কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম রুকু, আল হারুন অর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, মল্লিকা বেগম, শাহেরা বানু, মুক্তা বেগম, দুপ্রক সভাপতি এ কে এম সামিউল হক নান্টু, ইউসুফ আলমগীর, মহিলা পরিষদের প্রতিমা রায় চৌধুরী,  লাইলী বেগম, রবীন্দ্রনাথ রায়, মিজানুর রহমান মিন্টু, খন্দকার খায়রুল আনম, ফোরকান আল মসীহ, হুমায়ুন কবির সূর্য প্রমুখ।

২৭ ফেব্রুয়ারি

 

শেয়ার করুন