বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট-একটা উপহার

0
87
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস ডেস্ক: সকাল ১০টাঝাঁজালো রোদ চারদিকেবাফুফে ভবন চত্বরটাকে আরও ঝকঝকে লাগছিল২৩ ফুটবলার একসঙ্গে ফটোসেশন করছেনছোট ছোট ভাগে গল্পে মেতেছেনঅলক্ষ্যে যেন একটি সুরই বাজলকাঠমান্ডু থেকে একটা উপহার আনা চাই-ই চাইউপহারটা চ্যালেঞ্জ কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিটকাজী সালাউদ্দিনের হাতে তা তুলে দিতে উদ্গ্রীব ফুটবলাররাএমন ব্যাকুলতা ফুটবলারদের শরীরী ভাষায় কমই দেখা যায়বাফুফে ভবন চত্বর থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলের বাসটাও জানিয়ে গেল, ‘আমরা করব জয়মিডফিল্ডার মামুনুলের কণ্ঠে ওই উপলব্ধির অনুরণন, ‘সালাউদ্দিন ভাই সহজে ফুটবলারদের নিয়ে বসেন নাকদিন আগেই আমাদের সঙ্গে বসার সময় ওনাকে খুব অসহায় লাগছিলওনার জন্য হলেও আমাদের কিছু করা উচিতনইলে স্পনসরের কাছে তো যেতেই পারবেন নাসালাউদ্দিন ভাইকে একটা উপহার আমরা এবার দেবইপরিস্থিতিই আসলে এমন চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞাই দাবি করছে ফুটবলারদের কাছেবাফুফের পক্ষ থেকে এই সফরে ভালো করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না সালাউদ্দিনউচ্চ বেতনের দুজন ডাচ কোচের হাতে দায়িত্ব সঁপে দলটাকে পাঁচ দিন আগেই নেপালে ২-৬ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় পাঠাচ্ছেনখেলোয়াড়দের তো কিছু দেওয়ার পালা এখনঅধিনায়ক সুজন ঘুমের ঘোরেও নাকি গত কয়েক দিন তা টের পেয়েছেনটিম বাসে ওঠার আগে সেটিই বলে গেলেন, ‘সারাক্ষণই মনের মধ্যে খোঁচা লাগছে, ভালো করতেই হবেএমিলি-জাহিদ চোটের কারণে যেতে পারছে নাইনশা আল্লাহ, আমরা হতাশ করব নাডু অর ডাই মানসিকতা নিয়েই সবাই যাচ্ছিএই লড়াকু বাংলাদেশই দেখতে চায় সবাইআর তা দলটাকে লড়াকু মানসিকতায় গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন লোডভিক ডি ক্রুইফ ও রেনে কোস্টারযানজটের কারণে কাল বাফুফে ভবনে আসতে পারেননি তাঁরাবিমানবন্দরেই দলের সঙ্গে মিলেছেন দুজনতবু ঘুরে ঘুরে গুরুই থাকলেন ফুটবলারদের মুখেডিফেন্ডার ওয়ালির একটু বেশিই বললেন কোচ প্রসঙ্গে, ‘কোচ ডাচ পদ্ধতিতে খেলাতে চানসবাই ওই দিকটা নিয়েই বেশি ফোকাসডএকটা শিহরণ লাগছেখুব ভালো অনুভূতি এ মুহূর্তে সবারমনে হচ্ছে এবার আমরা ভালো করবইনবাগত স্ট্রাইকার তকলিচ আহমেদও একইভাবে শিহরিত যেন২০০৮ সালে ছাত্রভিসায় ইংল্যান্ড চলে যেতে চেয়েছিলামকিন্তু আবেদন করলেও ভিসা পাইনিভালোই হয়েছে, পেলে আজ আমি জাতীয় দলে খেলতে পারতাম না!বললেন সিলেটের তরুণ স্ট্রাইকারআরেক নবাগত মিডফিল্ডার জামাল হোসেন ২৬ দিন আগে বাবাকে হারিয়েছেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন খুবতাঁর স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাতে এই সফরে ভালো খেলতে চাইটুকরো টুকরো এসব সংকল্প মিলিতভাবে একটা সাফল্যের পূর্বাভাসই কি দিচ্ছে?

 

২৬ ফেব্রুয়ারী/নিউজরুম

 

শেয়ার করুন