স্পোর্টস ডেস্ক: ‘দলে ফিরতে আর কী করতে হবে’—আক্ষেপ নিয়ে এত দিন প্রশ্নটা করতেন এনামুল হক জুনিয়র। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০০৯ সালের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রেনাডায়। তাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬ উইকেট। অথচ এর পর থেকেই ব্রাত্য হয়ে ছিলেন টেস্ট দলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করে বাঁহাতি এই স্পিনার অবশেষে ফিরলেন। তবে এনামুলের এত দিনের প্রশ্নটাই এখন একটু ঘুরিয়ে করতে পারেন মার্শাল আইয়ুব—জাতীয় দলে খেলতে আর কী করতে হবে?
সর্বশেষ জাতীয় লিগে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরিসহ ৬৭.১১ গড়ে ৬০৪ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন। চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি। ফাইনালের আগ পর্যন্ত ৯২ গড়ে ৪৬০ রান, এখানেও এটাই সর্বোচ্চ। তার পরও শ্রীলঙ্কা সফরের ১৫ জনের দলে জায়গা মেলেনি মার্শালের!
সাকিব না-থাকা মানে দলে একই সঙ্গে একজন বাঁহাতি স্পিনার ও একজন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানের অনুপস্থিতি। বাঁহাতি স্পিনারের শূন্যস্থানটা নির্বাচকেরা পূরণ করেছেন এনামুল জুনিয়রকে ফিরিয়ে। ব্যাটসম্যানের ‘খালি’ জায়গাটিতেও তাঁরা বেছে নিলেন আরেকজন বাঁহাতি মমিনুল হককে। জাতীয় লিগ ও বাংলাদেশ লিগ মিলিয়ে ১০৬৯ রান করেও মার্শাল কেন মমিনুলের আগে বিবেচিত হলেন না, মিরপুরে কাল দল ঘোষণা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সেটার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক আকরাম খান, ‘মমিনুলকে নেওয়া হয়েছে ব্যাকআপ মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে। তবে মমিনুল ও মার্শালকে নিয়ে কোচ ও অধিনায়কের সঙ্গে আমাদের আধঘণ্টারও বেশি আলোচনা হয়েছে। দুজনেরই ফিফটি-ফিফটি সম্ভাবনা থাকলেও মার্শালকে নিলে মিডল-অর্ডারে সব ব্যাটসম্যানই ডানহাতি হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কা দলে ভালো একজন বাঁহাতি স্পিনার আছে। এসব চিন্তা করেই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মমিনুলকে নেওয়া।’ প্রধান নির্বাচক মার্শালের প্রতি সমবেদনাও জানালেন, ‘মার্শালের ভাগ্য খারাপ। তবে ও দলে আসার যোগ্যতা রাখে।’ টেলিফোনে মার্শালকে নাকি এটা জানিয়েছেনও আকরাম, ‘সামনে “এ” দলের খেলা আছে। বলেছি, তাঁর জন্য দরজা খোলা।’
টেস্ট স্কোয়াডে মমিনুল একেবারেই নতুন মুখ। মমিনুলের মতো এনামুল হক বিজয়ও টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায়। তবে গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনা টেস্টের আগে তামিমের হাতের চোটের কারণে স্কোয়াডে যোগ হয়েছিলেন তিনি।বাঁহাতি স্পিনার এনামুলের মতোই দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম ও পেসার রবিউল ইসলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিক, নাজিমউদ্দিন ও ইলিয়াস সানি। আর চোটের কারণে সাকিব তো নেই-ই।
দল নির্বাচনী সভায় স্পিনার মোশাররফ হোসেন ও সাকলাইন সজীবের সঙ্গে লড়াই হলেও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকায় দলে ফেরার দরজা খুলেছে গত জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ ৪৪ উইকেট পাওয়া এনামুলের জন্য। প্রায় চার বছর পর টেস্ট দলে ফিরে দারুণ খুশি এনামুল অবশ্য একটু সতর্ক, ‘আশা ছিল এবার ফিরব। শেষ পর্যন্ত টেস্ট দলে নিজেকে দেখে খুবই ভালো লাগছে। তবে সিরিজটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং।শ্রীলঙ্কায় এর আগে খুব একটা ভালো করিনি।’
এনামুল ছাড়া দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার আর একজনই—ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের চমক সোহাগ গাজী। পেসার আছেন চারজন। শ্রীলঙ্কা সফরের দল এখানেও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বাংলাদেশ দলের মূল শক্তি বাঁহাতি স্পিন। সে জায়গাতেই কিনা ঘাটতি রেখে দল যাবে শ্রীলঙ্কায়! চার পেসারেরই-বা দরকার কী? আকরামের ব্যাখ্যা, ‘এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা, আমরা হয়তো দুই পেসার নিয়েই খেলব। তবে পেসাররা ইনজুরিতে বেশি পড়ে। সেজন্যই ব্যাকআপ পেসার রাখা।’ এই মুহূর্তে কোন পেসার কার চেয়ে এগিয়ে, সেটা বুঝে উঠতে না-পারাও বোধ হয় চার পেসার দলে রাখার আরেকটা কারণ। প্রধান নির্বাচকের কথাতেই সেই ইঙ্গিত, ‘বিসিএলের শুরুতে অনেক পেসারই ইনজুরিতে ভুগেছে। আর বিপিএলে তো সবাই মাত্র ৪ ওভার করে বল করল।সেজন্য পেসারদের পারফরম্যান্স সেভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি।’
শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দল
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক (বিজয়), নাঈম ইসলাম, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আবুল হাসান, রুবেল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়র, জহুরুল ইসলাম, মমিনুল হক, শাহাদাত হোসেন, রবিউল ইসলাম।
২৫ ফেব্রুয়ারী/নিউজরুম









