২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩: একুশে বইমেলা
প্রচুর বই কিনে কুঁড়েঘরে থাকব, তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই ভালোবাসে না। বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। যদি কোনো দিন নেশার জগতে যেতে চাও, তাহলে বইয়ের নেশার যাও। বই এমন এক বন্ধু, যে কোনো দিন কখনো প্রতারণা করে না।
বই সম্পর্কে এমন অনেক প্রবাদ চালু রয়েছে। বই কেনার জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান বইমেলা। যাকে বলা হয় প্রাণের মেলা। বছরজুড়ে আবার শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, প্রতিযোগিতার পুরস্কার, গুরুজনদের ও ছোটদের উপহার হিসেবে বই শ্রেষ্ঠ উপহার। উপহার হিসেবে বই পেয়ে খুশি হয় না এমন মানুষ নেই। গত কয়েক মাসে বা আগামী কয়েক মাসে যাঁরা দেশ ও দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার চিন্তা করেছেন, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা ফেব্রুয়ারির এই অমর একুশে বইমেলায় এক দিনের জন্য হলেও আসুন। আমার বিশ্বাস, এখানে এলে আপনি যে নির্মল আনন্দ পাবেন, তা আর কোথাও পাবেন না। আর যদি সঙ্গে নিয়ে আসেন আপনার পরিবার, তাহলে সেই আনন্দ ছুঁয়ে যাবে আকাশ, তারপর অন্য আকাশ। এই ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনের এক দিন আপনার কাছের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দিন শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের আত্মার আত্মীয়দের।
রফিক
রাজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা।
যুদ্ধাপরাধী
স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আজ বাংলাদেশ এক নতুন সম্ভাবনার পথে হাঁটছে। বায়ান্ন, উনসত্তর আর একাত্তরের রক্তভেজা সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণদানকারী ৩০ লাখ শহীদ এবং অগণন নির্যাতিতা নারীর আত্মত্যাগের ফলে পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এত বেশি নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসস্তূপ দেখতে হতো না, যদি না এদেশীয় দোসর, রাজাকারেরা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করত।রাজাকারেরা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিত এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, লূটপাটের মতো ঘৃণ্য কাজ করত।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুখোশধারী রাজাকারেরা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে যায়। পরবর্তী সময়ে এসব যুদ্ধাপরাধী যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করেছে। যদি মুক্তিযুদ্ধের পরপরই এসব যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি রাজাকার দালালদের কঠোর শাস্তি দেওয়া যেত, তাহলে বর্তমানে তারা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালানোর সাহস পেত না। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আজ আবার সাধারণ মানুষের মধ্যে শুভ সংগ্রামী চেতনা জেগে উঠেছে। স্বাধীনতাবিরোধী দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার এটাই উপযুক্ত সময়।
সব রাজাকারের বিচার হতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের এখন একটাই চাওয়া—মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা






