মগজ পড়ার যন্ত্র

0
45
Print Friendly, PDF & Email

ফেব্রুয়ারি, ২০১৩: অন্যের মনের মধ্যে চিন্তার কী প্যাঁচ চলছে তা বোঝার ইচ্ছা হয় সবারসেই মগজ পড়ার যন্ত্রের কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেছেন বৈজ্ঞানিকেরা  নেহাত শিশুসুলভ ভাবনা হিসেবে ব্যাপারটাকে হেলাফেলা করলেও, বিষয়টাকে ছোট করে দেখেননি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জ্যাক গ্যালান্টদীর্ঘ দিন পরিশ্রমের পর তারা এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে তারা মস্তিষ্কের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভাবনাগুলোকে চাক্ষুষ করতে পারবেনএখন এই যন্ত্রটির প্রয়োগ আপাতত ল্যাবরেটরির চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধএর মাধ্যমে হয়তো পক্ষাঘাতে আক্রান্ত বাকশক্তিহীন রোগীদের সাথে কথা বলা সম্ভব হবে২০০৮ সাল থেকে খ্যাতনামা ¯œায়ু বিজ্ঞানী জ্যাক গ্যালান্ট ও তার দল শুরু করেছিল এই প্রজেক্ট২০১২ এসে তারা যে যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছেন, তার নাম ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজনেন্স ইমেজিং বা এফএমআরআই (FMRI)এই কম্পিউটারচালিত যন্ত্রটি মস্তিষ্কের ভাবনাগুলোর ছবি তোলেএবার এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, ভাবনার আবার ছবি কীসের?

 

¯œায়ু বিজ্ঞানীরা বলেন, যেকোনো সংবেদে আমাদের মস্তিষ্কে আলাদা আলাদা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের (খুব ক্ষীণ অবশ্য) সৃষ্টি হয়সেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর সংবেদের অস্তিত্ব ধরা পড়ে এফএমআরআইয়ের মনিটরেবিজ্ঞানীরা হিসাব কষে দেখেছেন, প্রতিটি সংবেদের ছবি পরস্পরের থেকে আলাদাঅর্থাআমি আইসক্রিম খেতে চাইএটা বলা বা ভাবার সময়, যে ধরনের গ্রাফমনিটরে পাওয়া যাবে, ‘একটু ঘুমাতে পারলে বেশ হতোভাবা বা বলার সময় মনিটরে তৈরি হওয়া গ্রাফের ছবি হবে সম্পূর্ণ আলাদাইতোমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনে আমরা সাধারণত যে কথাবার্তা বা চিন্তা-ভাবনাগুলোর ব্যবহার করে থাকি, তার একটা ডাটাবেজ বানিয়ে ফেলেছেন গ্যালান্টের সহকর্মীরাফলে মুখে একটা শব্দ ব্যবহার না করেও মগজে কী চলছে, তা অন্যদের জানিয়ে দিতে পারছেন তারাএর জন্য শুধু দরকার হচ্ছে কিছু একটা ভাবা, আর সেই ভাবনার ফলে কী ধরনের গ্রাফ মনিটরে উঠে আসছে তা ওই গ্রাফ ডাটাবেজের সাথে মিলিয়ে দেখাগ্যালান্টের দাবি মতে, ৯০ শতাংশ সময় এই যন্ত্র ঠিক বলছে

 

তবে গ্যালান্ট এবং তার দল কিন্তু কয়েকটা ব্যাপারে বড্ড গোঁড়াতারা কোনোভাবেই এই যন্ত্রটা অনুমতি ছাড়া ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে দিতে নারাজএই যন্ত্র দিয়ে গোয়েন্দাগিরি করা অনেক দূরের ভাবনা

 

গ্যালান্ট এবং তার পুরো দলেরই ধারণা যে, এই গ্রাফগুলোই পরে ব্রেন ড্যামেজ হওয়া রোগীদের কথা বলতে সাহায্য করবেকিংবা হয়তো আমাদের স্বপ্নের স্মৃতি ধরে রেখে সেগুলো আমাদের আবার দেখতে সাহায্য করবেএভাবে আমরা হয়তো স্বপ্নের অনেক অজানা রহস্যকে ভেদ করে ফেলতে পারব

 

শেয়ার করুন