২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩:দেয়াল পত্রিকা
দেয়াল পত্রিকা হলো জ্ঞানের ভান্ডার। কেননা, একটি দেয়াল পত্রিকায় সাহিত্য, বিজ্ঞান, রম্য, আমাদের সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ের প্রতিফলন ঘটে। আর সেটা যদি করা হয় বিদ্যালয়ভিত্তিক (বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়), তবে সেটা হয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য দারুণ আকর্ষণীয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠে সৃষ্টিশীল প্রতিভা। ছোট শিশুদের ভেতর গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসের প্রবল ঢেউ। তারাও তখন জানবে, ‘আমরাও লিখতে পারি, কিছু বলতে পারি।’
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়। ভাষা আন্দোলন হয়েছিল বলেই আজ আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতে পারছি, মনের ভাব প্রকাশ করছি। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ যাঁরা ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উপলক্ষে আমরা শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে (আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল) একটি দেয়াল পত্রিকা করছি। প্রধান শিক্ষিকা আছিয়া বেগম বিদ্যালয়ে প্রাতঃকালীন সমাবেশে দাঁড়িয়ে যখন একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি করার ঘোষণা দিলেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণই হবে নির্ভরতা; ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে একটু হতবাক হয়ে গেল দেয়াল পত্রিকার মর্মার্থ বুঝতে না পেরে। পরে তাদের বিষয়টি যখন বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়া হলো, তখন তাদের মধ্যে দেখা গেছে দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা। তারা ভাষা আন্দোলনের ওপর চমৎকার কবিতা লিখে জমা দিচ্ছে; কেউ পাঠ্যবইয়ের সাহায্য নিচ্ছে। যে কবিতা পারে না, সে নিয়ে এসেছে শহীদ মিনারের বড় একটি ছবি এঁকে। কেউ আবার গান লিখেছে। রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।
স্টুডেন্টস কাউন্সিলের নির্বাচনে নবনির্বাচিত সদস্যরা লেখা সংগ্রহ করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা বাছাইও করছে। ‘বাংলা ভাষা’ নিয়ে ছোট বাচ্চাদের মনের কথাগুলো পড়ে মনটা আনন্দে ভরে যায়।
শহরের বিদ্যালয়গুলোতে দেয়াল পত্রিকা করা হলেও গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে এর প্রভাব খুবই কম। কেননা, শিক্ষকেরা এ ব্যাপারে অনেকাংশেই উদাসীনতার পরিচয় দেন, যা কাম্য নয়। কেননা, দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে শিশুরা তাদের স্বপ্নগুলো, ভাবনাগুলো, নিষ্পাপ ইচ্ছাগুলো প্রকাশ করার সুযোগ পায়। আর শিশুদের এই অধিকার থেকে আমরা বঞ্চিত করতে পারি না কোনোভাবেই। তাই শিক্ষকদের উচিত এ ব্যাপারে শতভাগ দায়িত্ব পালন করা।
একটি দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে শিশুদের জ্ঞানের পরিধি বিচার করা যায়। সেই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়ে। দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষকেরা প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে সৃজনশীল মনোভাবের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারি, যারা পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ করবে আমাদের সাহিত্যভান্ডার।
সঞ্জয় কুমার ভৌমিক
সহকারী শিক্ষক, আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল।
অসহায় বাসযাত্রী
প্রায়ই দেখা যায়, হরতালকারীদের আক্রমণে বাস থেকে নামার আগেই বাসে আগুন দেওয়া হয়।বাসযাত্রীরা অসহায় হিসেবে কীভাবে আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে, তা দেখার কেউ নেই।
হরতালের আগের দিন বাসে আগুন দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করুন। বাসে যারা আগুন দেয়, তাদের কি পরিবার-পরিজন নেই? তারা কি অমানুষ? হরতালের দিন বা এর আগের রাতে বাসে আগুন দিয়ে যাদের মারা হয়, তাদের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতিপূরণ কে দেবে? অস্বাভাবিক মৃত্যু কারও কাম্য নয়।
ভেবেছিলাম, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতির মতো দেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি এক নয়। তারা সম্ভবত শান্ত, ধৈর্য এবং মারামারি-কাটাকাটি বা হরতাল দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেবে না, কিন্তু এবার তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে জনগণ বা দেশবাসী হতবাক!
যা হোক, সহিংস বা হিংসাত্মক রাজনীতি বা রাজনৈতিক কর্মসূচি কখনো শান্তি আনে না। তাই সবাইকে সমঝোতার পথে দেশে কল্যাণ আনতে হবে।
মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
গেন্ডারিয়া, ঢাকা।






