যুক্তরাজ্য মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না আন্তর্জাতিক মনোভাবকে গুরুত্ব দিন

0
76
Print Friendly, PDF & Email

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩।।

মৃত্যুদণ্ড সারা বিশ্বেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সর্বশেষ বিরোধিতা প্রকাশ পেল বাংলাদেশ সফররত ব্রিটিশ সিনিয়র পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ারসির কণ্ঠে। তিনি গত সোমবার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, তার দেশ যুক্তরাজ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সমর্থন করলেও মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না। বরং যেসব দেশে আজো মৃত্যুদণ্ড প্রচলিত, সেখানে শাস্তির এই বিধান বাতিলের জন্য যুক্তরাজ্য কাজ করে যাচ্ছে আন্তরিকতার সাথে এবং ঘনিষ্ঠভাবে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে অহিংস আন্দোলন যুক্তরাজ্য সমর্থন করে। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা বেগম জিয়া বলেছেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচার চায়; তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকমানের। কিন্তু বর্তমান ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানের নয় বলে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা অভিযোগ করেছে। বিএনপি এই অভিমত সমর্থন করে।

মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে প্রাচীনকাল থেকে। কিন্তু আধুনিক যুগে উন্নত বিশ্বের বহু দেশ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করে দিয়েছে বিভিন্ন যুক্তিতে। আরো বহু দেশ একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে এ সিদ্ধান্ত নেবে বলে অঙ্গীকার করেছে। যেসব দেশ ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে, সেগুলো প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত। ব্রিটেন ও কানাডার মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রও মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। যারা সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া উচিত বলে মনে করেন, তাদের যুক্তি হলো- কোনো ব্যক্তি তার কৃত অপরাধের পরিণাম হিসেবে সারা জীবন কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে কাটাতে বাধ্য হলে, সেটাই হবে তার জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত শাস্তি। বিভিন্ন দেশে এই মত ক্রমবর্ধমানভাবে সমর্থন লাভ করছে। মৃত্যুদণ্ড চালু আছেÑ এমন দেশের কোনো মারাত্মক অপরাধীও মৃত্যুদণ্ড রদকারী দেশে আশ্রয় নিলে তাকে আর ফেরত দেয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে ও রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে এখন মৃত্যুদণ্ডবিরোধী মনোভাব প্রবল। বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগ্রামী নেতারা ও সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডপ্রবণ দেশগুলোর সরকারের বিরুদ্ধে এখন সোচ্চার। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া রায় তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের সম্মুখীন হয়েছে এই বলে যে,  এর পেছনে রাজনৈতিক অসদুদ্দেশ্য রয়েছে অথবা অপেক্ষাকৃত ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’ দেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার পরে প্রমাণিত হয়েছে, সে রায় সঠিক ছিল না। অর্থাৎ সে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করে তাকে ফাঁসি, ফায়ারিং, বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসানো অথবা ঘাতক ইনজেকশনের সাহায্যে হত্যা করা হয়েছে। বিচারের নামে অবিচারের এর চেয়ে মর্মান্তিক ব্যাপার আর কী হতে পারে?

আমরা আশা করি, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত প্রবল হয়ে ওঠার বাস্তবতা বাংলাদেশও উপলব্ধি এবং সরকার সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

শেয়ার করুন