শহীদ মিনারে ফুল দেয়া থেকে বঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীরা

0
270
Print Friendly, PDF & Email

শিক্ষা ডেস্ক(১৯ ফেব্রুয়ারী): বগুড়ার ধুনটে শতভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেইফলে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভাষার জন্য শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর শহীদ মিনারে ফুল দেয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৯৬টি সরকারি, ৯৮টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি, ৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১টি কেজি স্কুল, ১৬টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা ও ব্র্যাক পরিচালিত ৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছেওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেউপজেলার ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নিএজন্য শিক্ষার্থীরা জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেউপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১১টি শহীদ মিনারএরমধ্যে ধুনট সদর, ডিগ্রি কলেজ, গোসাইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, জোড়শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়, চিকাশি আন্তঃ ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, সোনারগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, জালশুকা কলেজ ও মথুরাপুর এমপিএসটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছেওইসব শহীদ মিনারে ২১ শে ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের স্মরণে ফুল দেয়া হয়কিন্ু্ত সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নেইসদরের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সুযোগ পেলেও অজোপাড়াগাঁয়ের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিতএমনকি প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা কখনও শহীদ মিনারে ফুল দেয়া দেখেনিবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুলতানা খাতুন, রেজাউল করিম, চন্দনা রানীসহ শতভাগ শিক্ষার্থী জানায়, স্যারেরা (শিক্ষক) ক্লাসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পাঠদানের সময় বই থেকে পড়ানকিন্তু ফুলকে কিভাবে কোথায় দিতে হয় তাতো জানি নাএকই উত্তর পাওয়া যায় খাটিয়ামারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন, রেজিয়া পারভীন, জাকির হোসেনসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে
শ্যামগাঁতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, মূলত শহীদ মিনার না থাকার কারণেই যে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে দেখেনি এটাও ঠিক নাপাঠ্যবই থেকে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান করে থাকেনকিন্তু বাস্তবে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের দিবসগুলো সম্পর্কে উত্সাহিত করেন নাবানিয়াগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের জাতীয় দিবসগুলোর গুরুত্ব জানানোর জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার থাকা দরকারকিন্ু্ত শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেইমূলত স্কুলগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার কারণেই জাতীয় দিবসগুলোতে শিক্ষার্থীরা ফুল দেয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেউপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিহির লাল আচার্য্য বলেন, এ বছর প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা দিবস পালিত হবেএ বিষয়টি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অবগত করা হয়েছেশহীদ মিনার না থাকলে তারা অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে সেখানে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন