কৃষি ডেস্ক(১৯ ফেব্রুয়ারী): নওগাঁর ধামইরহাটে ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থার স্লুইস গেটগুলো কৃষকের কোনো উপকারে আসছে না। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে উপজেলার ক্ষুদ্র সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা উপ-প্রকল্পগুলো কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। ফলে এ উপজেলার চারটি খাড়ি নদীতে ৬টি স্লুইস গেট অনেকটা অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। জানা গেছে, বাংলাদেশ, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও লেদারল্যান্ড সরকারের যৌথ অর্থায়ন ও কারিগরী সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এ উপজেলার ঘুকসী খাড়ি, আমাইতাড়ার কলকলিয়া খাড়ি, টুটিকাটা খাড়ি ও হযরতপুর-লোদিপুর খাড়ির ওপর ৬টি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধি ও খাড়ির দু’ধারে মূল্যবান গাছপালা রোপণের মাধ্যমে সরকারের সামগ্রিক দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়।প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য ছিল খাড়ি সংস্কার করে বর্ষা শেষে রবি ও খরা মওসুমে স্লুইস গেটের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ বা আটকিয়ে প্রকল্প এলাকার দু’ধারে আবাদী জমিতে সেচের মাধ্যমে শস্য ফলানো। সে কারণে প্রকল্প এলাকায় খাড়ি পুনঃ খনন, সংস্কার, বাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণ করে ফসল ফলানো এবং ধরে রাখা পানিতে মাছ চাষ, হাঁসপালন, খালের দু’ধারে বৃক্ষরোপণসহ সমবায় পদ্ধতিতে এর কার্যক্রম চালু রাখার কথা। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা স্লইস গেটগুলো বর্ষা মওসুমে প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক ফসলহানি ও খরা মওসুমে পানি ধরে রাখার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার সময় প্রকল্প এলাকায় বন্যা ও ভাঙ্গন দেখা দেয়। রবি ও খরা মওসুমে পানির অভাবে পুরো প্রকল্প এলাকা পানিশূন্য অবস্থা বিরাজ করে।এতে প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া সমবায়ীদের মাঝে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালকদের মধ্যে দলাদলি ও নিরাপত্তার কারণে স্লুইস গেটগুলোর ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ চুরি ও বর্ষা মওসুমে গেটগুলো বন্ধ থাকায় এবং খড়া মওসুমে বন্ধ না করায় পানিশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকছে প্রকল্পগুলো।প্রকল্পগুলো ২০০২ সাল থেকে শুরু হলেও কৃষকরা এসব প্রকল্প থেকে কোনো উপকার পাচ্ছে না। বর্তমানে এসব স্লুইস গেট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমবায়ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ কমিটির লোকজন সরকারদলীয় হওয়ায় এ কমিটির কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার মূল্যবান অর্জুন, কদম ও আকাশমনি গাছগুলো রাতের আঁধারে কে কারা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।এলাকাবাসী প্রকল্প এলাকায় এখনও যেসব গাছ আছে সেগুলোর প্রতি নজর দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলী হোসেন জানান, কমিটিগুলো গতিশীল করার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কমিটি সম্পর্কে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিউজরুম






