সংসদীয় আসনবিন্যাস রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি

0
91
Print Friendly, PDF & Email

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩।।

সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বিষয়। এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তবে এই এখতিয়ার চর্চা করার সময় রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা বোঝাপড়ার বিষয়টি ঐতিহ্যের অংশ। সংসদ, সংসদীয় আসন, সংসদ নির্বাচন ও সংসদীয় কর্মকাণ্ড পুরোটাই রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনৈতিকভাবেই সংসদ নির্বাচনে জনগণ অংশ নেন।

যারা বিজয়ী হন তারা সরকার গঠন করেন। প্রতিপক্ষ বা বিরোধী দলে যারা বসেন তারাও ছায়া সরকার ধারণায় সক্রিয় থাকেন। তাই শুধু এখতিয়ার বলে কোনো কাজ সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়।

অথচ প্রভাবশালীদের মন রক্ষা করে এবং নির্বাচন কমিশনের দুই-একজন কমিশনারের মতের আলোকেই জাতীয় সংসদের আসনসীমানা পুনর্বিন্যাস করা হলো। এর ফলে ুব্ধ হলো দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তাদের অভিমত হচ্ছেÑ ইসি মহলবিশেষের স্বার্থে আসনগুলো ভেঙে তছনছ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যত দূর জানা যায়, সরকারি দলের বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যেও অনেকে এই বিন্যাসে ক্ষোভ প্রকাশ ও দ্বিমত পোষণ করেছেন। সংলাপে সুশীলসমাজ ও রাজনৈতিক দলের মতামতকে ইসি আসনবিন্যাসের সময় বিবেচনায় নেয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংবিধানে ইসিকে ক্ষমতা দেয়া আছে এটা ঠিক কিন্তু ইসি যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তার জন্য ভোগান্তির শিকার হবেন সাধারণ মানুষ। এর রাজনৈতিক ফলও শুভ নয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, খসড়ায় জেলাওয়ারি আসনসংখ্যায় কোনো পরির্বতন না এলেও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক। কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে, জনসংখ্যা বা ভোটার বৃদ্ধির বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকটা খেয়ালিপনা প্রদর্শন করেই বেশির ভাগ আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আসন পরিবর্তনে প্রভাবশালী মহলের তদবির এবং কমিশনের আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, এতে এই প্রথম সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর বিধিবিধানের ব্যাপক লঙ্ঘন হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুসারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে  একটি চূড়ান্ত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করে। সেই গেজেট প্রকাশের আগে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ অভিমত না নিলে জটিলতা বাড়ে। যেমন বিদ্যমান ঢাকার সংসদীয় আসন বহাল অথবা বাড়ানো হলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে।

মহাজোটের শরিক দল ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ খসড়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দল বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা না করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করায় আসনগুলোর সীমা পুনর্বিন্যাসে সীমাহীন অসঙ্গতি ঘটেছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয় পার্টির বক্তব্য ছিল, অযৌক্তিকভাবে সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোরতর সমস্যার সৃষ্টি হবে। এর ফলে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেও অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিতে পারে।

আমরা মনে করি, আসনবিন্যাসের ব্যাপারে সংবিধান ইসিকে এককভাবে ক্ষমতা দিয়েছে এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তবে প্রতিটি আদমশুমারির পর জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই এই আসন বিন্যাস করার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রাখা সমীচীন হতে পারে না। এখন নির্বাচনের আসনবিন্যাসের চেয়েও বড় বিষয় কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভাবমর্যাদা। তা ছাড়া বিরোধী দলকে বিবেচনায় নেয়ার ব্যাপারেও কমিশন উদাসীন। ফলে ইসি যে আরো একটি সঙ্কট বাড়িয়ে দিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে ক্ষমতা প্রয়োগের আগে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি।

শেয়ার করুন