অবশেষে ১৪ দিন পর এলেন তারা

0
114
Print Friendly, PDF & Email

শাহবাগ আন্দোলন এই গণজোয়ার দেখে বাসায় বসে থাকতে কারোও মন মানে না। শাহবাগের স্লোগান, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মিছিল আর গান রক্তে নাচন লাগায়। শুরুর দিন থেকেই এখানে জনসাধরণের উপস্থিতি ছিল লক্ষ করার মত। এখনও আছে তাই। শাহবাগ ঘুমায়নি। শাহবাগ কখনো ঘুমায় না। শুরুর দিন থেকেই ছিলাম। আছি এবং থাকবো…।

গতকাল মোবাইলে একটি এসএমএস আসলো টেলিভিশন মিডিয়ায় কর্মরত শিল্পী, নির্মাতা, প্রডিউসার আর কলাকুশলীরা শাহবাগ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে সোমবার তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিলিত হবেন। এসএমএসটা পড়ে একটু হাসলাম। আমাদের এই টেলিভিশন মিডিয়ার শিল্পীদের একত্রিত হতে ১৪টি  দিন সময় লেগে গেল তাদের! শাহবাগ যেন কত দূর। ১৪ দিনের প্রস্তুতি নিতে হয় এখানে আসতে।  

শুধু টেলিভিশন মিডিয়া নয়। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিও তাদের সংহতি জানাতে এসেছিলেন। এফডিসি থেকে আসতে তাদেরও ১৪ দিন সময় লাগলো! বাহ! চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি এখনো আসেননি সংহতি জানাতে। তারা হয়তো আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান এখনো আসেনি। তাদের হয়তো আরো একটু সময় লাগবে প্রস্তুতি নিতে। সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী থেকে আসতে একটু সময় লাগতেই পারে। এটা আমাদের বুঝতে হবে।

আমরা আশা করতে পারি, যে যে সংগঠনগুলো এখনো আসেনি। তারা আসবেন। নিজেদের সংগঠনের নাম দিয়ে সুন্দর ডিজাইনের ব্যানার বানাতে তো ভাই একটু সময় দিতে হবে। আর এখন হয়তো ব্যানার লেখকদের একটু চাপই যাচ্ছে। তারপর যেহেতু তারা শিল্পী তাই তাদের এই আন্দোলনে যোগ দেবার আগে আগপাছ ভাবতে হবে। নতুন পোষাকও হয়তো লাগবে। ম্যাকআপ নিতে হবে। সব মিলিয়ে কিছুটা সময় তো ভাই তারা নিতেই পারে! তাই না? এটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।

তবে একটা কথা বলতেই হয় সংগঠনের কথা না ভেবে, নিজের ক্যারিয়ারের কথা না চিন্তা করে। নিজের প্রাণের টানে প্রথম দিন থেকেই এ আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন অভিনেতা অভিনেত্রী এবং নির্মাতা ও নাট্যকার। তারা ব্যানারের রাজনীতি আর লোক দেখানো আন্দোলন সমর্থন করেন না। তাই তাদের নামগুলো এখানে দিলাম না।

তারপরেও ধন্যবাদ দিতে চাই যে, টেলিভিশন মিডিয়ার ব্যানারে যে শিল্পী ও নির্মাতারা সোমবার সংহতি প্রকাশ করেছেন। এবং তারা ঘোষণা দিয়েছেন দিগন্ত টেলিভিশনে তারা আর কোন ধরণের কাজ করবেন না। এ ঘোষণা অটল থাকুক সে প্রত্যাশা আমাদের। চলুক আন্দোলন।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩

শেয়ার করুন