চরম পানি সঙ্কট

0
78
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক(১৮ ফেব্রুয়ারী): বর্ষাকালে মেঘনার অথৈ পানির কারণে যেসব মানুষকে গৃহবন্দি থাকতে হয় তারা শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই চরম পানি সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেদৈনিন্দন গৃহস্থালির কাজসহ প্রয়োজনীয় পানি না পেয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরের প্রায় আট হাজার মানুষএটি মেঘনা নদীর মাঝের একটি দ্বীপচর হলেও ডুবোচর ও নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় পুরো চরটি এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছেচরের মধ্যে ছোট ছোট খাল, পুকুরসবই শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছেপ্রয়োজনে এক কলসি পানি আনতে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছেএদিকে টানা দুই মাস পানির সঙ্কট অব্যাহত থাকায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ওই চরের বাসিন্দারাপ্রতিনিয়ত চর্মরোগ ও পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে চরবাসীসরেজমিনে জানা যায়, মেঘনার মধ্যবর্তী মাঝের চরটি সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডএখানে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাসএরা সবাই মেঘনার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দুর্গম এই চরে বসবাস করছেবিভিন্ন সময়ে অসহায় এসব মানুষর জন্য সরকারিভাবে ১২টি আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণ করা হয়এরই মধ্যে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে সাতটি আশ্রয়ন প্রকল্পবর্তমানে বাকি পাঁচটিতে চার হাজার মানুষসহ পুরো চরে আট হাজার মানুষ বসবাস করেপ্রতিটি আশ্রয়ন প্রকল্পের সঙ্গে একটি করে পুকুর থাকলেও শীতের মাঝামাঝি সময় থেকে ওইসব পুকুর শুকিয়ে গেছেচারটি গভীর নলকূপের একটি কয়েক বছর ধরেই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছেপানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাকি তিনটিতেও পানি উঠছে নাচরবাসীর সঙ্গে আলাপকালে উঠে আসে তাদের না পাওয়া অনেক ক্ষোভের কথাদুর্যোগ মোকাবিলায় নেই কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা মাটির কিল্লানেই স্বাস্থ্যসেবার কোনো সুযোগ-সুবিধাবর্ষায় বানের পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছুখড়ার সময় (শুষ্ক মৌসুমে) পানির অভাবে চলছে হাহাকারওই চরের প্রবীণ বাসিন্দা ইব্রাহিম মাঝি জানান, মেঘনার ভাঙনে সাত বার ঘরবাড়ি হারান তার পরিবারনিরুপায় হয়ে প্রায় একযুগ আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে ওই চরে বসবাস শুরু করেনএতদিন ঝড়-বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতোএখন নতুন করে শুষ্ক মৌসুমে পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছেপার্শ্ববর্তী মরিয়ম বেগম জানান, গৃহস্থালি কাজের জন্য প্রতিদিন তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের নদী থেকে পানি আনতে হয়এক বার যাওয়া-আসাতেই দিন শেষআর কাজ করার সময় পাওয়া যায় নাতিন-চার দিন পর একবার গোসল করতে হয়পানির অভাবে নানা রোগবালাই দেখা দিয়েছেস্থানীয়রা আরও জানান, দখিনের বাতাস শুরু হলে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাবেবর্ষা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবেতখন অবস্থার আরও অবনতি হবেস্থানীয় রেজি. প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মসজিদের ইমামসহ আরও অনেকে জানান, সুপেয় নিরাপদ পানির সঙ্কট তাদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছেস্থানীয় ইউপি মেম্বার অহিদউদ্দিন বাবুল জানান, জোয়ারের সময় আসা পলি জমে আশ্রয় কেন্দ্রের পুকুরগুলো ভরাট হয়ে গেছেএ বছর পৌষ মাসের শুরু থেকেই পুকুরগুলো শুকিয়ে যায়চরের মধ্যকার ছোট নালা-খালগুলোও শুকিয়ে গেছেএছাড়া চরের চারপাশের ডুবোচরগুলো জেগে ওঠায় সহজে নদীর পানিও ব্যবহার করা যাচ্ছে নাবসতি এলাকা থেকে নদীর পানির দূরত্ব চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারফলে চরম পানি সঙ্কটে ভুগছে ওই চরের বাসিন্দারাস্থানীয় কাচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নকীব জানান, গত কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে ওই চরে পানির সঙ্কট দেখা দেয়কিন্তু এবার তা চরম আকার ধারণ করেছেএতে চরবাসীর যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধান করতে হবেজরুরি ভিত্তিতে পুকুরগুলো পুনঃখনন ও গভীর নলকূপ বসানো প্রয়োজন

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন