সারা দেশে চারা সঙ্কট

0
61
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক(১৬ ফেব্রুয়ারী): বোরো আবাদ নিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন চাষীরাশৈত্যপ্রবাহে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সারা দেশে চারা সঙ্কট দেখা দিয়েছেলোডশেডিংয়ের কারণে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারছে না চাষীরাএছাড়া কৃষি উপাদানের দাম বেড়ে যাওয়ার খড়্গ রয়েছেগত মৌসুমে লোকসানের শিকার চাষীরা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো চাষে বাধ্য হচ্ছেনফলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৪৭ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ ও ১ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টন চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়মোট জমির মধ্যে ৩১ লাখ ৪৭ হাজার হেক্টরে হাইব্রিড, ১৫ লাখ ৫২ হাজার হেক্টরে উফশী এবং ৮০ হাজার হেক্টরে স্থানীয় জাতের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়বোরো আবাদের জন্য দেশে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য ছিলএবার ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহীএ অঞ্চলে ৮ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের আশা করা হচ্ছেএছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৭ লাখ ৯৯ হাজার হেক্টর, রংপুরে ৭ লাখ ৬০ হাজার, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ৪ লাখ ৭ হাজার হেক্টর, যশোরে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ও ঢাকা অঞ্চলে ৪ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের টার্গেট করা হয়মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরো আবাদে নানান সঙ্কটে পড়েছেন চাষীরাআমাদের প্রতিনিধিদের রিপোর্টে বিস্তারিত
কাহারোল (দিনাজপুর) : আমাদের প্রতিনিধি মো. আবদুল্লাহ জানান, লোডশেডিং, ডিজেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছেগত মৌসুমের চেয়ে এবার অনাবাদী থাকছে প্রায় ৩শহেক্টর জমিউপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় বোরো চাষ হয়েছিল ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতেএবার তা কমে ৬ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছেপ্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকায় সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরাপল্লী বিদ্যুত্ অফিস জানায়, পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৯ মেগাওয়াট ও অফ-পিক আওয়ারে ৫ মেগাওয়াটঅথচ মৌসুমের শুরুতেই বিদ্যুত্ পাওয়া যায় ২-৩ মেগাওয়াটএ উপজেলায় বিদ্যুত্ চালিত নলকূপ রয়েছে ৮০০টিএছাড়া ১৬৪টি গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত ৫ হাজার অগভীর নলকূপ রয়েছেবিদ্যুত্চালিত নলকূপের আওতায় বোরো চাষ হচ্ছে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতেকাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ইরি-বোরো চাষে প্রভাব পড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করেন তিনি
তালা (সাতক্ষীরা) : আমাদের প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থাকার পরও ত্রি-মুখী সঙ্কট নিয়ে ১৫ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে বোরো আবাদেরএতে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছেউপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ত্রি-মুখী সঙ্কটে পড়ে হতাশায় কৃষকরাতেলের দাম বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও কোল্ড ইনজুরিতে ধান বীজ তলা কয়েক দফা নষ্ট হওয়ায় বোরো আবাদে ব্যয় বাড়ছেকৃষকরা জানান, কপোতাক্ষ নদে নাব্য সঙ্কট ও দখলের কারণে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছেএসব জমিতে বোরো আবাদই কৃষকদের একমাত্র ভরসাদেওয়ানীপাড়া গ্রামের কৃষক মুনসুর আলী ও নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান জানান, বোরো আবাদ করতে আমাদের এলাকার কৃষকদের প্রথমে জলাবদ্ধতা, তীব্র শীতে বীজতলা নষ্ট ও ডিজেলের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধির কারণে চরম হতাশা বাড়ছেউপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাদ্দেক আলী জানান, জলাবদ্ধতার পরও উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের কাজ চলছে
সদরপুর (ফরিদপুর) : আমাদের প্রতিনিধি প্রভাত কুমার সাহা জানান, তেলের মূল্য ও বিদ্যুত্ বিল দফায় দফায় বৃদ্ধির ফলে, উত্পাদন খরচ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতায় ও বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বছর ফরিদপুরের সদরপুরে ইরি-বোরো চাষ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছেজানা গেছে, সদরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ৫টি গভীর, ৮০৬টি অগভীর ও ৯টি এলপি পাম্পচালিত ব্লকে ৩ হাজার ৬৮ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়গত ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাষ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪২১ হেক্টর জমিতেএখনও প্রায় অর্ধেক জমিতে চাষীরা ইরি-বোরো চাষ করতে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছেসূত্রটি আরও জানায়, বিদ্যুত্চালিত ৩টি গভীর ও ৬৬টি অগভীর নলকূপেরও অধিকাংশ ব্লকে চাষীরা ধান চাষ করছেন নাকারণ হিসাবে তারা জানান, দফায় দফায় বিদ্যুত্ বিল ও তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে আতঙ্কে চাষীরা
দোহাজারী (চন্দনাইশ) প্রতিনিধি জানান, সরকারের সর্বশেষ জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর রেকর্ড অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বেড়েছে ৭ টাকাচট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি বিভাগ ও চাষীদের হিসাব অনুযায়ী এই বৃদ্ধির কারণে শস্যভাণ্ডার খ্যাত চন্দনাইশে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুত্ ও ডিজেলচালিত ১৮৪টি গভীর-অগভীর নলকূপ ও শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে চন্দনাইশ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়
এদিকে বিভিন্ন উপকরণসহ ধান চাষাবাদে নতুন করে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আশঙ্কা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছেধান বিক্রিতে এমনিতেই লোকসান গুনতে হচ্ছে, এর ওপর নতুন করে ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে লোকসানের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও নেয়া সম্ভব হয়নি

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন