আর্ন্তজাতিক ডেস্ক(১৩ ফেব্রুয়ারী): ‘সিরিয়ার প্রকৃত বিপ্লব শেষ হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি’—বলছিলেন সিরিয়ার শ্রদ্ধেয় বিদ্রোহী নেতা আবু মাহমুদ। আর এই অবস্থার জন্য বিদ্রোহী অন্য গোষ্ঠীগুলোর দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি।বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবু মাহমুদ তাঁর এই হতাশার কথা জানান।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর সময় বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘চোর ও দুর্নীতিবাজেরা আমাদের চমৎকার বিপ্লব কলঙ্কিত করেছে। সত্যিকার বিপ্লবীদের জীবনের বিনিময়ে কিছু বিদ্রোহী নেতা লজ্জাজনকভাবে সম্পদশালী হয়েছেন।’ তুরস্ক সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সিরিয়ার আতমে এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে এএফপিকে সাক্ষাৎকার দেন মাহমুদ। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের লুটপাট ও দুর্নীতির বিষয়টি অনেকটাই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠল।
মাহমুদ বলেন, বিদ্রোহী নেতাদের দুর্নীতির কারণে হতাশ হয়ে অনেক সত্যিকারের বিপ্লবী বাশারবিরোধী লড়াই ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ বিদ্রোহী নেতারা আমাদের সামনের সারিতে লড়াই করতে পাঠাচ্ছেন। আর নিজেরা পেছনে থেকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন। তাঁরা যুদ্ধ করতে সামনের সারিতে আসছেন না। এমন কয়েকজন নেতা এখনো বাশারবিরোধী লড়াইয়ের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’ মাহমুদ বলেন, ‘এই নেতারা যেখানেই যান—চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট করেন। যেসব মূল্যবান জিনিস নিজেদের সঙ্গে করে নেওয়া যায়, তা নিয়ে অবৈধভাবে তুরস্কে বিক্রি করেন। এসব জিনিসের মধ্যে রয়েছে দামি গাড়ি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, স্বর্ণ, প্রাচীন মূল্যবান নিদর্শন প্রভৃতি। প্রকৃত বিপ্লবীদের কাছে এটা অকল্পনীয়।’
বিদ্রোহী নেতা মাহমুদ বলেন, তিনি ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) কয়েক ডজন নেতার নাম উল্লেখ করতে পারবেন, যাঁরা এসব লুটপাট, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। গত জুলাই পর্যন্ত ইদলিব ও আলেপ্পো প্রদেশে বাশারবিরোধী লড়াইয়ের সময় তিনি এমন দুর্নীতিবাজ নেতাদের দেখতে পেয়েছেন। এর পর থেকে লড়াইয়ে এফএসএর সহায়তা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কিসের জন্য লড়াই করছি। আমাদের দেশ ও জনগণের জন্য, নাকি জনগণের কাছ থেকে সম্পদ লুটপাটের জন্য?’
মাহমুদ সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পক্ষ ত্যাগ করে তিনি ‘ব্যাটালিয়ন ৩০৯’ গঠন করেন। সততা, সাহস ও সাধারণভাবে জীবনযাপনের জন্য সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য নেতা মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘মাত্র সাতটি কালাশনিকভ রাইফেল নিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই রাইফেলগুলো সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাটালিয়ান আর কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট করবে না। আমরা বিপ্লব ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু বিপ্লব আমাদের ছাড়বে না। আবার এমন দিন আসবে, যখন লড়াইয়ে নামতে হবে।’
নিউজরুম









