১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩: জ্ঞানভান্ডারে তালা
বই জ্ঞানের বাহন। বই ও অন্যান্য পাঠ্য উপাদান পড়েজ্ঞানার্জন করা যায়। শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞানার্জন করা।শিক্ষাই একজন মানুষকে পরিপূর্ণ জ্ঞানী করে তুলতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশেশিক্ষাব্যবস্থা কতটুকু জ্ঞানমুখী? এ দেশের কতজন শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিকশিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞানার্জন করতে পারে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হলোপ্রাচীনকালে ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেওয়া সার্টিফিকেট তৈরির কারখানা। এশিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞানার্জনের সুযোগ খুবই সীমিত। কিন্তু আধুনিক বিশ্বেজ্ঞানার্জনের একটি তীর্থ কেন্দ্র হচ্ছে গ্রন্থাগার। তাই বিশ্বের উন্নতদেশগুলো গ্রন্থাগারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে এবং গ্রন্থাগারেরউন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। গ্রন্থাগার জ্ঞানার্জনের সহায়ক। কেবলগ্রন্থাগারই পারে একজন ব্যক্তিকে প্রকৃত জ্ঞানী করে গড়ে তুলতে। তাই তোদেখা যায়, প্রাচীনকালের রাজা-বাদশারা জ্ঞানচর্চার জন্য গ্রন্থাগার গড়েতুলতেন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে একটি অবহেলিত খাত হচ্ছেগ্রন্থাগার।
এ দেশের শিক্ষিত জনসমাজ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদেরাআমাদের জাতীয় জীবনে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। তাইগ্রন্থাগারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা এ দেশে গড়ে ওঠেনি। কিন্তু আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। সেখানেগ্রন্থাগারমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি মাধ্যমিকবিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে। গ্রন্থাগারিকদের ১৮ হাজার ৫০০টিনতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বিভিন্নবিদ্যালয়ে পাঠাগার স্থাপন করেছে (ব্র্যাক গণকেন্দ্র) এবং ওই সব পাঠাগারেএকজন করে গ্রন্থাগার কর্মী নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু অত্যন্তপরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এসব গ্রন্থাগারের মধ্যে বেশির ভাগই তালাবদ্ধ অবস্থায়পড়ে আছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।
আমাদের দেশে এমন অনেক একাডেমিকগ্রন্থাগার আছে, যেগুলো কখনো খুলেছিল কি না, তা ওই প্রতিষ্ঠানেরছাত্রছাত্রীরাও বলতে পারবে না। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গ্রন্থাগারটিতালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। আবার এমন অনেক গ্রন্থাগার আছে, যেগুলো মাঝেমধ্যেতালা খুলে ধুলাবালি পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু গ্রন্থাগার সেবা প্রদান করাহয় না। আমরা শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলি। ফলাফল ও জিপিএ-৫ বৃদ্ধিরপ্রতিযোগিতায় নামি, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানার্জনের দিকে আমাদের কোনো নজর নেই।তাই তো দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৫৫ শতাংশ জিপিএ-৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর পেতে ব্যর্থ হন। মেধাবীদেরএই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে, তাঁরা স্কুল ও কলেজজীবনে যথাযথগ্রন্থাগার সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে তাঁরা তাঁদের পাঠ্যসিলেবাসবহির্ভূত বৈশ্বিক জ্ঞানার্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা, বেশির ভাগ সময়ই তাঁদের গ্রন্থাগারগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
তাই এখানেএকটি সাধারণ প্রশ্ন হচ্ছে, জ্ঞানের ভান্ডারে তালা মেরে রেখে কীভাবেজ্ঞানার্জন সম্ভব? গ্রন্থাগারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ব্যতীত কীভাবে শিক্ষারমানোন্নয়ন হতে পারে, তা আমার বোধগম্য নয়। তাই আমাদের জ্ঞানী হতে হলে, মেধা ওজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে গ্রন্থাগারমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিসর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। জ্ঞানভান্ডারকে তালাবদ্ধ করে না রেখে তাসবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সব গ্রন্থাগারকে দক্ষ ও যোগ্যগ্রন্থাগারিক নিয়োগ করে কার্যকর গ্রন্থাগার সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজীব কুমার ঘোষ
তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
একটি সংবাদ
২৭জানুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটি মর্মান্তিক সংবাদ আমাকেসাংঘাতিকভাবে স্পর্শ করেছে। সংবাদটি হলো, কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালেচিকিৎসার জন্য ভর্তিকৃত তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে হাসপাতালেরঝাড়ুদারের দেওয়া ইনজেকশনে মারা গেছে। সংবাদটি হূদয়বিদারক। ভাবতে অবাক লাগে, এই হলো আমাদের দেশ—সরকারি হাসপাতালের প্রদত্ত সরকারি চিকিৎসার নমুনা।
চিকিৎসাঅন্যতম মৌলিক চাহিদা; জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা। কেন্দ্র ওহাসপাতালগুলো স্থাপন করা হয়েছে জনসাধারণ যেন সুলভে অথবা বিনা মূল্যেচিকিৎসার সুফল পেতে পারে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার, নার্স এবংস্বাস্থ্যকর্মীরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন না, তার নমুনা পত্রিকার এইসংবাদে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।
সচ্ছল ব্যক্তিরা বহু অর্থের বিনিময়েবেসরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। কিন্তু অসহায় দরিদ্র এবংনিম্নবিত্তদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই সরকারি হাসপাতালগুলো। এখন প্রশ্ন, চিকিৎসার জন্য এরা কোথায় যাবে।
অতএব স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রণালয়ের প্রতি আবেদন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার অনিয়ম দূরীকরণ এবংউন্নতির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
মাহতাব আলী
মিরপুর, ঢাকা।






