আসল খুনিদের দেখতে চাই রুনির মা

0
63
Print Friendly, PDF & Email

রুপশী বাংলা ডেস্ক(৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩):মেঘকে দেখবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেনকিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজই নেননিঅন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে নাটক আর কত দিন চলবে, তা-ও জানতে চাইএ ঘটনার বিচারে সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যরা বলে দিক ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা, সাল, বছর না কত যুগ লাগবেসরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই, আমরা (রুনির মা-সহ) আসল খুনিদের দেখতে চাইআর কোনো জজ মিয়া নাটক দেখতে চাই না
কথাগুলো সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনিরেরযে সাগর রক্ত দেখলেই ভয় পেত সেই সাগরকেই…বলেই সাগরের মা কান্নায় ভেঙে পড়েনসে কান্না সাগর-রুনিদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত অনেকের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েসাগরের মা সাগর-রুনির নামে একটি পাঠাগার গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানআলোচনা সভায় রুনির মা মির্জা নুরুন নাহার উপস্থিত ছিলেনতবে তিনি অসুস্থতার জন্য কথা বলেননিঅন্যদিকে মেঘ পুরো সময় উপস্থিত থাকলেও সে তার নিজের জগত্ নিয়েই ব্যস্ত ছিলএকটু পরপর চকলেট খাওয়া, সুযোগ পেলেই আলোচকদের সামনের মাইক্রোফোন গুছিয়ে দেওয়া বা দৌড়ে বাইরে চলে যাচ্ছিল
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারে সরকারের প্রতি আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না, বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরাবলেছেন, এখন পেশাদারির খাতিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম এককভাবে বা অনেকে একসঙ্গে হয়ে অনুসন্ধানী সেল গঠন করে তদন্ত করার সময় এসেছে
আজ শনিবার সাগর-রুনির পরিবার ও বন্ধুদের আয়োজিত সাগর-রুনির জন্য আমরাশীর্ষক আলোচনা সভায় এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়ডিআরইউর একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘মেঘের কাছে আমাদের অঙ্গীকার, সাগর-রুনির হত্যার ন্যায়বিচারআলোচকদের সবার বক্তব্যে এ কথাই প্রাধান্য পায়সভার শুরুতেই সবাই দাঁড়িয়ে এই দম্পতিসহ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানএই দম্পতির বাসার দারোয়ান হুমায়ুন ওরফে এনামুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবরটি আলোচনার শুরুতে জানানো হলেও এতে তেমন কোনো উত্সাহের জোগান পাওয়া যায়নিঅভিযুক্ত এনামুলের গ্রেপ্তার দেখানো নতুন কোনো নাটক কি না, তা নিয়েই উল্টো অনেকেই প্রশ্ন তোলেন
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সহযোগিতায় ইউনিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে মেঘের জন্য একটি তহবিল গঠনেরও আহ্বান আসে সভা থেকেএ সভার সভাপতি ডিআরইউর সভাপতি শাহেদ চৌধুরী আগামী সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সব পত্রিকায় সাগর-রুনিকে নিয়ে অভিন্ন সম্পাদকীয় প্রকাশের আহ্বান জানান
দৈনিক সমকাল’-এর সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, গত এক বছরে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দিকে এক পা-ও অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়নিদিনের পর দিন যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বদল ঘটেছে, কিন্তু শুনতে হচ্ছে একই কথাতথাকথিত গোয়েন্দাদের ওপর আর নির্ভর করা চলবে নানিজেদেরকেই তদন্ত দল বা সেল গঠন করে মাঠে নামতে হবেবিশ্বে এমনকি ভারতে আনন্দবাজার পত্রিকায়ও এ ধরনের তদন্ত দল গঠন করে প্রতিবেদন প্রকাশের নজির আছে
বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, একটি সভ্য দেশের সূচকের মধ্যে দেশটির অপরাধীরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় কি না, তা অন্যতম একটি সূচকসাংবাদিক না হয়ে সাধারণ মানুষ হলেও এত দিনে সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়ে যাওয়া উচিত ছিলবিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না
সাংবাদিক আবেদ খান, শাহ আলমগীর, কাশেম হুমায়ুন, মাঈনুল আলম, সাজ্জাদ আলম, মোজাম্মেল হক, রাশেদ আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, শাহানাজ বেগম, নাজমুল হোসেন, জহুরুল আলম,শেখ মামুন, শফিক শাহীন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন
সাংবাদিক নেতাদের আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ
আলোচনায় প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না করে সরকার, তদন্ত সংস্থা এবং সাংবাদিক সমাজ এই তিনটি মহল নাটক করছেস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা শুনে আন্দোলনকারী সাংবাদিক নেতারা কেন চুপ করে যান, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি
একই প্রসঙ্গে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান সাংবাদিক সমাজের ব্যর্থতার জন্য সাগর-রুনির পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চানতিনি বলেন, বিচার তো দূরের কথা, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করাই সম্ভব হয়নি এখনো
দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ব্যর্থতার জন্য শুধু সরকার নয়, আসামির কাঠগড়ায় আমরাও আছিসাংবাদিক নেতারা যেসব কর্মসূচি নিচ্ছেন, তা যথার্থ কি না, তা-ও ভেবে দেখতে হবেখোলাসা করে বললে বলতে হয়, আমরা আপস করেছি
এ ছাড়া আলোচনায় এবিএম মূসা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের কাছে প্রতিদিন সাগর-রুনির ছবি ছাপানোর প্রতিশ্রুতি চানশাহবাগ স্কোয়ারে যেভাবে মানবতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, একইভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কদম স্কোয়ারে অন্ততপক্ষে একটি দিন বা কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও সাগর-রুনির জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের একত্র হওয়ার এবং মেঘের জন্য তহবিল গঠনের কথা বলেনসাগরের লেখা অপ্রকাশিত ডায়েরিটি কোথায় গেল, উদ্ধার করা সিডি থেকে কেন কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তা-ও তলিয়ে দেখার কথা বলেন এবিএম মূসা
গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত সাগর-রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশপ্রথম মৃত্যুবার্ষিকী তথা এক বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা না হওয়ায় ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন