খেলা দেখব না মেয়ে দেখব

0
101
Print Friendly, PDF & Email

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩: বিশ্বখ্যাত রাশিয়ান সার্কাস দেখতে গিয়েছিসার্কাসের খেলা দেখব না মেয়েদেখব? ভাবতে ভাবতেই কয়েকটি খেলা শেষমেয়েরা প্রত্যেকেই একটু ওপরে ভ্রুএঁকে চোখে মোটা করে আই লাইনার দেওয়ায় চোখগুলো বড় বড় লাগছে, চেহারায় একধরনেরমুগ্ধ বিস্ময়ভাব তৈরি হয়েছেভাবছি, পরিরা কি এদের চেয়েও সুন্দরী? একটুপরে এক মহাসুন্দরীকে একটা ইলেকট্রিক করাতের নিচে শোয়ানো হলোকালো পোশাকেরএক জাদুকর ভীত কণ্ঠে বললেন, ‘এই সার্কাসে সাধারণত কারও নামই বলা হয় নাকিন্তু রাইসার নাম বলতে বাধ্য হচ্ছিকারণ, সামান্যতম ভুলেও সে মারা যেতেপারেপিনপতন নীরবতাদর্শকদের বুকের মধ্যে ধুকপুক ধুকপুক করছেসবারসামনে তিনি রাইসার শরীরের মাঝ বরাবর ইলেকট্রিক করাতটি চালিয়ে দিলেনভয়েচোখ বন্ধ করে ফেললামচিকারের শব্দে চোখ খুলে দেখি রাইসা দুই টুকরো হয়েগেছেএপাশ-ওপাশ দিয়ে দরদর করে রক্ত পড়ছেভাবছি, এই মেয়ের রূপের জাদুতেইতো মুগ্ধ ছিলামতাকে কেটে দুই খণ্ড করে জাদু দেখানোর আবার কি দরকার ছিল? একটু পর মেয়েটি বেরিয়ে এসে একটা ভুবন ভোলানো হাসি দিলচারদিকে মুহুর্মুহুকরতালি পড়ে গেল
প্রতিটি খেলা শেষেই দুজন ভাঁড় মজার কিছু করেএকটু আগেবেলুন ফুলাতে ফুলাতে তারা কেমন করে যেন বেলুনের মধ্যেই ঢুকে গেলকীঅদ্ভুত! এরপর শুরু হলো ঝুলে থাকার খেলা৩০-৪০ ফুট ওপরে একটি ঝুলন্ত রিংয়েপা দিয়ে এক মেয়ে ঝুলছেতার হাতেধরা আরেকটি রিংয়ে একইভাবে ঝুলছে একলোকসেইলোকটির কামড়ে ধরা একটি দড়িতে ঝুলছে রাইসাএকজন ভাঁড় মজা করে বলছে, ‘রাইসাযদি আমার ওপর একবার পড়ত, তাহলে খুব আরাম পাইতামভাঁড়ের রসিকতায় দর্শকদেরহাসি আর থামেই নাহঠা রাইসা সত্যিই ভাঁড়ের ওপর পড়ে গেল
দুদিন পরএকটি পত্রিকায় রাইসার ছবিসহ সাক্ষাকার দেখলামপাশেই ভাঁড়ের মৃত্যুসংবাদমনটাই খারাপ হয়ে গেলসাক্ষাকারে রাইসাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে
তুমি পড়ে গেলে কীভাবে?
আমি পড়ে যাইনি
তাহলে?
মিখাইল আমাকে ছেড়ে দিয়েছে
সেকি! ছেড়ে দিল কেন?
সে অনেক কথা
তুমি কি সুস্থ হয়ে আবার খেলা দেখাবে?
না
কেন?
শুধু হাত-পা ভাঙলে সমস্যা ছিল নাকিন্তু আমার তো মন ভেঙে গেছেখেলা দেখাব কীভাবে?
মানে?
আমারবয়স তখন ১৭ বছরের একটু বেশিসবেমাত্র পাইলট ট্রেনিং শেষ করেছিখনিব্যবসায়ী বাবা আমাকে দুই সিটের একটি প্লেন কিনে দিলেনআকাশে মেঘসঙ্গী জীবনআমার ভালোই কাটছিলমাস তিনেক পরে মস্কোর এক সার্কাস শোতে মিখাইলকে প্রথমদেখলামসেই দেখা-ই সব ওলট পালট করে দিলওকে আর না দেখে থাকতে পারি নাকাউকে কিছু না বলে সোজা চলে গেলাম মিখাইলের কাছেসে আমাকে ফিরে যাওয়ারজন্য বোঝাতে লাগলকিন্তু আমার কথা তো একটাই
তুমি যেখানে খুশি যেতে পারো, তোমাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না
মিখাইল আমাকে বোঝাল, ‘এসব তোমার ক্ষণিকের ভালোলাগাকদিন পরেই আর ভালো লাগবে না
আমিনাছোড়বান্দা, ‘শোনো! বেশির ভাগ মানুষের ভালোবাসার অপর পিঠে ঘৃণা থাকেকিন্তু আমার ভালোবাসার অপর পিঠেও ভালোবাসাতোমার জন্য শুধু ভালোবাসাইরেখেছি
মিখাইল কিছুতেই বিশ্বাস করল নাকষ্ট পেলামখুউবপরদিন প্লেননিয়ে ছুটলামমস্কোর নীলাকাশে প্লেনের সাদা ধোঁয়া দিয়ে লিখলাম, ‘আই লাভইউ, মিখাইলতোমার সব সময়ের রাইসা
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখে একটা কাজহলোরাইসা এবং মিখাইল নাম দুটি রাশিয়ার মানুষের মুখে মুখে রটে গেলকিছুদিন পর একটা অচেনা নম্বর থেকে বেশ কয়েকবার ফোন পেলামরিসিভ করলে কোনোকথা বলত নাআবার কলব্যাক করলেও রিসিভ করত নাতার কিছুদিন পর অদ্ভুতসুন্দর একটি বেনামী চিঠি পেলাম—‘একমুহূর্ত দেখব তোমায়, দেখা করব নামুঠোফোনে হ্যালো শুনব, কথা বলব না
ভাবছি, এ আবার কোন পাগল? কদিন পর আবার ফোন এলরিসিভ করলামকিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘তোমার কাছে হেরে গেছি, জানু
সেইথেকে একসঙ্গে চলাআমিও সার্কাসে ঢুকে গেলামএ পর্যন্ত অনেক দেশে সার্কাসকরেছিভালোই ছিলামকিন্তু সমস্যাটি তৈরি হয়েছে ভেরোনিকাকে নিয়ে…
কী সমস্যা?
মিখাইল তাঁর প্রেমে পড়েছে
মানে?
হুভেরোনিকার হাতে ধরা রিংয়েই মিখাইল ঝুলছিলআমি মিখাইলের দাঁতেভেরোনিকার কথাতেই মিখাইল আমাকে ছেড়ে দিয়েছে
এসব জানার পরও কেন তুমি তার দাঁতে ঝুলতে গেলে?
গত সাতটি বছর আমার জীবনটা তো ওর প্রেমেই ঝুলেছিল

শেয়ার করুন