শীত ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট

0
120
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক( ফেব্রুয়ারী): বোরো মৌসুমের শুরুতেই সিরাজগঞ্জ, রায়গঞ্জ ও বগুড়ার শিবগঞ্জে চারা-সংকট দেখা দিয়েছেতীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছেচড়া দামেও অনেক কৃষক চারা সংগ্রহ করতে পারছেন না
গ্রাম থেকে গ্রামে, হাট থেকে হাটে চারার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন কৃষকেরাঅনেক কৃষক শেষ পর্যন্ত চারা সংগ্রহ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে উকণ্ঠায় আছেন
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
শিবগঞ্জ (বগুড়া): উপজেলায় প্রতি পণ (৮০ আঁটি) চারা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছেকৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের জন্য প্রায় এক হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রায় ৬০০ হেক্টরের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে কারণে কৃষকদের বোরোর চারার জন্য ছুটতে হচ্ছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে
বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কালীতলা হাটে চারা কিনতে আসা আজমল হোসেন (৫৫) বলেন, ‘শীতে আমার বীজতলা শেষ হয়ে গেছেএখন চারা সংগ্রহ করতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হচ্ছেউপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এজাজ কামাল বলেন, কৃষকদের মধ্যে চারা-সংকট নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছেতবে এখনো সময় আছেচারা তৈরি করে তা রোপণ করলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ): উপজেলার হাটবাজারে প্রতি পণ চারা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছেধানগড়া বাজারের কৃষক মুনসুর রহমান জানান, দুই পণ চারা তিনি এক হাজার টাকায় কিনেছেনঝাপড়া এলাকার কৃষক আবদুল মালেক বলেন, এবার তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে উপজেলার বেশির ভাগ কৃষকের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে
সিরাজগঞ্জ: চাহিদা বেশি হওয়ায় চারার দাম গতবারের চেয়ে অনেক বেশিকামারখন্দ উপজেলার নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের হাশেম আলী জানান, টানা ২২ দিন কুয়াশা থাকায় তাঁর বীজতলার চারা মরে গেছেগত বছরের চেয়ে এবার দ্বিগুণেরও বেশি দামে চারা কিনতে হচ্ছে; তাও চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না
চারা ব্যবসায়ী মন্তাজ আলী জানান, আগে বগুড়ার শেরপুর, মির্জাপুর এলাকা থেকে চারা এনে বিক্রি করেছেনএবার সেখানেই অধিক চাহিদা থাকায় বেশি চারা পাওয়া যাচ্ছে নাসে কারণে দাম বেড়েই চলেছে
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ উপবিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ আরশেদ আলী জানান, এবার কুয়াশার কারণে বেশ কিছু বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে চারার কিছুটা সংকট রয়েছেএ অবস্থায় কৃষকদের সাত-আটটির বদলে এক বা দুটি করে চারা রোপণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছেকম চারা রোপণ করলে দ্রুত আরও বেশি কুশি বের হয়এ জন্য প্রতিটি গ্রামে উঠান বৈঠকসহ প্রচারপত্র বিলি করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছেএতে ফলন ভালো হবে

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন