এক শায়নার গল্প

0
69
Print Friendly, PDF & Email

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩: পিতা ছবির গল্প শুনব শায়নার কাছ থেকেতার আগে জেনে নিই, হালে কী করছেন তামুম্বাইয়ে অনীল কাপুরের ফিউচার স্টুডিও থেকে শুরু করে আশপাশের ফিল্ম বাংলোয় টানা ১৬ দিন শুটিং করেছেনতাই সময়-অসময়ে ছুটতে হয়েছে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন রাস্তাঘাটেএশিয়ান টেলিভিশনে প্রচারিতব্য অন্তহীন নাটকের শুটিং শেষে মুম্বাই থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন শায়না আমিনসেই গল্পই করছিলেন শনিবার লালমাটিয়ায় তাঁর বাসায় বসে
টানা শুটিংয়ের ধকলে চেহারায় কিছুটা ক্লান্তির ছাপআমাকে একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছেঅন্তহীন-এ আমি আর আমিন খান ছাড়া সবাই ইন্ডিয়ার কলাকুশলীআমরা বাংলাদেশের শিল্পীশুটিংয়ের শুরুতে তাই একটু অবহেলার চোখে দেখতে শুরু করলেন তাঁরাবিষয়টি আঁচ করে প্রথম থেকেই কাজের প্রতি খ্যাপাটে ছিলাম আমিএকটা সময় কাজের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে উল্টো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন মুম্বাইয়ের শিল্পীরাশায়নার সঙ্গে আড্ডার শুরুতে একনাগাড়ে বলে গেলেন তিনিতারপর একটু দম নিয়ে বললেন, ‘ওদের চেয়ে আমাদের নাটকের গল্প বেশি শক্তিশালী
আড্ডার গল্প ততক্ষণে মুম্বাই হয়ে বাংলাদেশের মাটিতেসেই গল্পে বারবার উঁকি দিচ্ছে একজন পল্লবীমাসুদ আখন্দ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র পিতায় পল্লবী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনিএখানে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ভূমিকায় তাঁর অভিনয় মন ছুঁয়েছে দর্শকেরঅভিনয়ের সময় নিজেও অনুভব করেছেন মুক্তিযুদ্ধের আবেগআমাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও সেই আবেগ তাঁর মুখে, ‘যুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু অভিনয় করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করেছি ক্ষণে ক্ষণেপ্রতিটি দৃশ্যে যেন আমি মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয় বারবার ফিরে গেছিএই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য টানা ২০ দিন গাজীপুরের একটা গ্রামে থাকতে হয়েছে শায়নাকেতিনি বলেন, ‘সব সময়ই শুটিংয়ের পোশাক পরে থাকতামনিজেকে ওই পরিবেশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতামএকটা ঘটনার কথা বলি, প্রসব বেদনার কষ্টের প্রকাশটা কেমন হবে, নিজে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম নাশ্রাবণ মেঘের দিন-এ এমন একটা দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন শামীমা আপা (শামীমা নাজনিন)তাই তাঁর কাছে গেলামতিনি আমাকে শেখালেনপরে এই দৃশ্যে আমার অভিনয় দেখে অনেকেই কেঁদেছেন
এবার প্রশ্ন পিতা ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর প্রস্তুতি সম্পর্কে
প্রস্তুতি এক দিনের নয়ছোটবেলায় সিনেমার পোকা ছিলামএ জন্য মায়ের হাতে অনেক পিটুনি খেয়েছিআবার তোরা মানুষ হ, আলোর মিছিল, ওরা ১১ জনসহ মুক্তিযুদ্ধের অনেক নন্দিত ছবি দেখার সুযোগ হয়েছে আমারআমার স্কুলশিক্ষক ছিলেন আনিসুর রহমানতিনি ক্লাসে মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো এমনভাবে বলতেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা যেন আমাদের চোখে ছবির মতো ভেসে উঠতএসব স্মৃতি বহন করেই এ পর্যন্ত এসেছিএকটানা বলেন শায়নাছবিটি দেখে অনেকেই প্রশংসা করেছেনফেসবুক ও ফোনে প্রচুর সাড়া পেয়েছি
চলচ্চিত্র থেকেই সাফল্য কুড়াতে চান শায়নাতাঁর কথায়, ‘বড় পর্দায় কাজের অনুভূতি ও আনন্দ অন্য রকমেরএখানকার পরিকল্পনা, শুটিং ও প্ল্যাটফর্ম একেবারেই আলাদাবড় পর্দায় অভিনয় শিল্পীর গ্রহণযোগ্যতাও বাড়িয়ে দেয়তাই চলচ্চিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করতে চাই
আড্ডার গল্পে শায়নার আয়নায় ভাসছে রাশি রাশি স্বপ্ন

 

শেয়ার করুন