নাটোর পৌরসভা মেয়রের হাট-বাজার ইজারার ক্ষমতা খর্ব

0
56
Print Friendly, PDF & Email

পিপলু রহমান, নাটোর:  হাট-বাজার ইজারার প্রায় দুই কোটি টাকা সরকারী,কোষাগারে জমা না করায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কলকাতার সমকালীন নাটোর পৌরসভার মেয়রের হাট-বাজার ইজারার ক্ষমতা খর্ব করে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে  পৌরসভার হাট-বাজার ইজারার দায়িত্ব নিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অফিস।

 

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নাটোর পৌর এলাকার তেবাড়িয়া হাট, নিচাবাজার, ষ্টেশনবাজার ও বাস টার্মিনার বাজার মেয়রের ইজারা ক্ষমতা বাতিল করেন বিভাগীয় কমিশনার । উল্লেখিত চারটি হাট বাজার আগামী ১৪২০ সনের ইজারা সরকারী ভাবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইজারার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরকে সহযোগীতা করার জন্য নাটোর পৌরসভার সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২২ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াৎ হোসেন নাটোর পৌরসভা পরির্দশন করেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, হাট বাজার ইজারা চুড়ান্ত হওয়ার সাত দিনের মধ্যে ইজারার সম্পূর্ন অর্থ তফসিলি ব্যাংকে জমা করতে হবে। পরে দ্রুততার সাথে মোট ইজারা মূল্যের অতিরিক্ত ১৫ ভাগ ভ্যাট হিসেবে এবং ৩ ভাগ আয়কর খাতে ও মোট ইজারা মূল্যের ৫ভাগ ভূমি রাজস্ব খাতে, ৪ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে জমা দিবেন। বাঁকী ৯১ ভাগের ৪৫ ভাগ হাট বাজার রক্ষনাবেক্ষন খাতে এবং ৪৬ ভাগ অর্থ পৌরসভার রাজস্ব আয় হিসেবে ব্যাংকে জমা প্রদানের বাধ্য বাধকতা আছে। অথচ ২০০১-০২ অর্থ বছর থেকে অদ্যাবধি নাটোর পৌরসভার চারটি হাট বাজার  ইজারা মূল্যের ভ্যাট, আয়কর রাজস্ব, ভূমি রাজস্ব খাত ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের খাতে কোন অর্থ জমা দেয়া হয়নি। এতে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে পৌরসভার বিভিন্ন কাজ দরপত্র ছাড়া মেয়রের অনুমতিতে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে কাজ করা হয়েছে। বড় যে সব কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা  হয়েছে তাও বেশীর ভাগ বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশ না করে ইচ্ছামত ক্রুটিযুক্ত ভাবে অখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। নাটোর পৌর এলাকার বাসিন্দা সাব ওভারসিয়ার হিসেবে ১৯৮০ সাল থেকে কর্মরত আবুল কাশেম শেখ ১৯৮৫ সালে প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে টানা প্রায় ২৯ বছর থেকে এই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পৌরসভার হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম অবসর নেয়ার পরও বিধি বহির্ভূত ভাবে তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে হাট বাজার ইজারাকৃত অর্থ সরকারী খাতে জমা না হওয়া, কোন রকম দরপত্র ছাড়াই খন্ড খন্ড ৪২৫টি প্রকল্প দেখিয়ে ২০০৯ থেকে ১২ অর্থ বছর পর্যন্ত পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকরামুজ্জামান , ফিরোজ হোসেন ও বিভিন্ন কাউন্সিলরদের নামে বিয়ারার চেক দিয়ে ৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা উত্তোলন ও ব্যয় করা, সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত পদে মাষ্টার রোলে নিয়োগ দেয়া কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান, অবসরপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলামকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও টানা ২৯ বছর থেকে নিজ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আবুল কাশেম শেখ এর নিয়োজিত থাকার বিষয়ে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন পাঠান। শহরের দুটি ব্যাংক থেকে পৌরসভার দেড় কোটি টাকা এফডিআর ভেঙ্গে তুলে নেয়ার পর টাকা খরচেরও কোন হিসাব মেয়র দেখাতে পারেননি এবং মাষ্টার রোলে নিয়োগ দেয়া অতিরিক্ত কর্মচারী ছাটাই করার জন্য নির্দেশ দিলেও মেয়র কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ সব নানা অনিয়মের কারনে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান পৌরসভার ওই হাট চারটির ইজারা প্রদানে মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করে নিজের দপ্তরের দায়িত্বে নিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, ভূমি মন্ত্রনালয়েনর সচিব ও নাটোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি লিখিত ভাবে জানিয়েছেন।

 

মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ৪ কোটি টাকা দেনা নিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে সেসব দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে  ইজারা খর্ব করা সর্ম্পকিত চিঠি পাওয়ার পর বুধবার বকেয়া ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা করেছেন বলে দাবী করেন।

 

নাটোরের জেলা প্রশাসক জাফর উল্লাহ,  নাটোর পৌরসভার মেয়রের ইজারা ক্ষমতা খর্ব করে নেয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেশ কয়েক বছরের বিপুল অংকের টাকা সরকারী খাতে জমা করা হয়নি। তবে টাকার অংকের পরিমান জানাতে পারেননি।

আপলোড, ৮ফেব্রুয়ারী ২০১৩, সম্পাদনা আলীরা্জ, হেড অব নিউজ

শেয়ার করুন