জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে কীভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন তার ডক্যুমেন্টসহ নিউইয়র্কে শেষের দিনগুলোর অজানা অনেক তথ্যে সমৃদ্ধ ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো’ নামক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই বাংলা একাডেমির বইমেলায়। হুমায়ূনের ভক্ত-অনুরক্তদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে এবং দেশবরেণ্য এই লেখকের মৃত্যুর দালিলিক কারণ সর্বসাধারণকে জানানোর অভিপ্রায়ে সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতাল-চিকিৎসকের সার্টিফিকেট সন্নিবেশিত হয়েছে আড়াই শত পৃষ্ঠার এ গ্রন্থে। এটি লিখেছেন নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার সার্বিক তত্বাবধানে নিয়োজিত মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা।
এর মুখবন্ধ লিখেছেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ এবং তিনিই মোড়ক উন্মোচন করবেন। এ গ্রন্থে নিউইয়র্কে চিকিৎসা সম্পর্কিত যাবতীয় ডক্যুমেন্ট এবং বহুল আলোচিত নিউইয়র্কে তার শেষ দিনগুলোর বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা রয়েছে বলে এনাকে জানালেন লেখক বিশ্বজিৎ সাহা। এ গ্রন্থের প্রচ্ছদ একেঁছেন কে সি মং এবং প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবি দিয়েছেন খালেদ সরকার। ছবি রয়েছে ৬০টি। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা এবং শেষ দিনগুলোর বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে। এই গ্রন্থে অনুমাননির্ভর কোন গল্প বলার চেষ্টা করা হয়নি। বিশ্ববিখ্যাত ‘মেমরিয়াল øোন কেটারিং ক্যান্সার হাসপাতাল’, ‘বেলভ্যু হাসপাতাল’ ও ‘জ্যামাইকা হাসপাতাল’র প্রতি মুহূর্তের মেডিকেল রিপোর্ট-এর তথ্য-উপাত্ত, দলিলপত্র, দুর্লভ ছবি এবং লেখকের দেখা কিছু ঘটনা নিয়েই এই গ্রন্থ।’ ‘ হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রচলিত নানা গল্প ও বিভ্রান্তির নিরসন এবং তাঁর প্রিয়জন ও ভক্তদের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরাই (রিঃয বারফবহপব) মূল উদ্দেশ্য’-দাবি বিশ্বজিতের।
বিশ্বজিৎ বলেন, ‘২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১০ মাস নিউইয়র্কে অবস্থান, চিকিৎসা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ‘সিনিয়র এ্যাডভাইজার’ হওয়া, ছবি আঁকা, ঘুরে বেড়ানো, চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়া, ১৯ জুলাই শেষ নি:শ্বাস এবং ২১ জুলাই তাঁর মরদেহ আমিরাত এয়ারলাইন্সের ফাইটে (ইকে০২০২) তোলার প্রায় প্রতিটি ঘটনার তথ্য ও চিত্র নিয়ে এই গ্রন্থ। ১১ অনুচ্ছেদে তা বিবৃত হয়েছে।’ নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জীবনবেলার শেষ দিনগুলোর খুঁটিনাটি জানতে বাঙালি পাঠক ও ভক্ত এখনও উৎসুক। সেইসব দিনগুলিতে তাঁর কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েই শতকোটি মানুষের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার তাগিদে এই গ্রন্থ প্রকাশের আয়োজন বলেও উল্লেখ করেন বিশ্বজিৎ সাহা।








