জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে আইন দেখছি: তথ্যমন্ত্রী

0
61
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা,( ৭ফেব্রুয়ারী) : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে প্রচলতি আইনে যেসব বিধান আছে, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছি। নির্বাচন কমিশনের আইন, সংবিধান, দেশের আইন সব কিছু দেখে পরবর্তী উদ্যোগ সম্পর্কে জানাবো।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত দল হিসেবে জামায়াত নিজেদের প্রমাণ করেছে। তার পরিণতি জামায়াতকেই ভোগ করতে হবে।”

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “একাত্তরে যেভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন করেছিল, এখন একইভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় যুদ্ধ’ ঘোষণা করে পুলিশসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের বিচার চলবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

“একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য যে ধরনের ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার শুরু করেছি, পুনর্বার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য জামায়াত-শিবির ও উগ্রপন্থীদের একই পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে”, হুঁশিয়ারি দেন তথ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “জামায়াত কোনোভাবেই ইসলামী দল নয়। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। একাত্তরেও তারা ইসলামের কথা বলে রাজনীতি করে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা, দুই লাখ নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন, কোটি কোটি মানুষকে ঘর-বাড়ি ছাড়া করেছে- যাদের ৯৫ শতাংশই মুসলমান। তারা ধর্মীয় আচার নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সুতরাং জামায়াতকে কোনোভাবেই ইসলামের সমার্থক বলে দাবি করা যায় না।”

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “জামায়াত একটি অগণতান্ত্রিক, সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন। এ ধরনের শক্তি কোনোভাবেই গণতন্ত্রে অঙ্গীভূত হতে পারে না। গণতন্ত্রের বিকাশের স্বার্থেই জামায়াতকে গণতন্ত্রের মাঠ থেকে বিতাড়ন করতে হবে। তারা দেশের জন্যই নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য বিপদ ও ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।”

জামায়াতকে সশস্ত্র-জঙ্গিবাদী সংগঠন উল্লেখ করে গণতন্ত্রের মঙ্গলের জন্য মন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক দলকে জামায়াতকে বর্জনের আহ্বান জানান।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “মহাজোট বা মহাজোটের শরিক কোনো দলের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা বা আঁতাত করা হয়নি, এর প্রশ্নই ওঠে না।”

জামায়াত একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল হলেও কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। সামরিক শাসনের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তারা। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে প্রমাণ হলো, তারা অতীতের অপকর্ম রক্ষা করতে চায়। তারা অতীতের মতো সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িক দল। তাদের রাজনৈতিকভাবে বর্জন করা উচিত। এর বিরুদ্ধে বিচারিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বর্তমানে প্রচলতি আইনে যেসব বিধান আছে, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছি। নির্বাচন কমিশনের আইন, সংবিধান, দেশের আইন সব কিছু দেখে পরবর্তীতে উদ্যোগ সম্পর্কে জানবেন।”

“তাদের সশস্ত্র হামলার মামলা দায়ের শুরু হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত দল হিসেবে জামায়াত নিজেদের প্রমাণ করেছে। তার পরিণতি জামায়াতকে ভোগ করতে হবে।”

গত কয়েক দিন জামায়াতের সশস্ত্র ঘটনা দেখার পরে সরকার সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাদের মোল্লার রায়ের পর শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের সমাবেশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধাপরাধীর বিচারের যে ইশতেহার নিয়ে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই অনুযায়ী বিচার চলছে। শুধু বিচারের দাবিতে সোচ্চার হলেই হবে না, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সজাগ থাকতে হবে।’’

নিউজরুম

শেয়ার করুন