তিন হাজার হেক্টর বাগান সুপারিশূন্য

0
44
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক(০৭ ফেব্রুয়ারী): গত জানুয়ারি মাসের দুই দফা শৈত্যপ্রবাহের কারণে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন বাগানের সুপারি ঝরে পড়ছে১৫ দিনের ব্যবধানে উপজেলার প্রায় তিন হাজার হেক্টর বাগান সুপারিশূন্য হয়ে পড়েছেবৈরী আবহাওয়ায় লোকসানের ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন বাগান মালিকেরাঅন্য দিকে মূলধন হারাতে বসেছেন অগ্রিম বাগান ক্রয়কারী সুপারি ব্যবসায়ীরাকৃষি বিভাগের মতে তাপমাত্রা উঠানামা করায় এ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছেএ অবস্থা চলতে থাকলে উত্তরাঞ্চলের সুপারির আকাল দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী

 

এবার কুড়িগ্রাম অঞ্চলে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে দ্রুত তাপমাত্রা কমতে থাকেএমনকি তা ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে আসেঅব্যাহত ঘনকুয়াশা ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বর্তমানে গাছ থেকে সুপারি ঝরতে শুরু করেকিন্তু গাছ থেকে সুপারি অস্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়া শুরু হলে দিশেহারা হয়ে পড়েন মালিকেরাএ রকম পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকেরা সুপারি রক্ষায় কৃষি বিভাগে যোগাযোগ করেনকিন্তু সেখানে তাক্ষণিক কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা হতাশ

 

এ অঞ্চলের উপাদিত সুপারি সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা দেশের সর্বত্রজেলার চাহিদা পূরণ করে এ অঞ্চলের সুপারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর কুড়িগ্রামের মানুষ সুপারি সঙ্কটে পড়বেনউপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ঝরে পড়া অপরিপক্ব সুপারি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পোন  দরে বিক্রি করতে দেখা গেছেঅথচ ২০ দিন আগেও বাজারে ৯০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা দরে পুরান সুপারি বিক্রি হতোক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা তাদের ঝরে পড়া সুপারি সিদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করছেনসুপারি পাকার সময় বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ আসার আগেই বাগানগুলো সুপারিশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা বাগান মালিকদের

 

ফুলবাড়ী ডিগ্রি মহিলা কলেজের প্রভাষক লুফর রহমান, গজেরকুটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আলহাজ সিদ্দিক আলী, কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের গোলাপ হোসেন জানান, তারা প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করতেনএ বছর হঠা অতিমাত্রায় শৈত্যপ্রবাহের পর গত ১৫ দিন ধরে বাগানের সব গাছ থেকে অবিরাম সুপারি ঝরে পড়ছে

 

শিমুলবাড়ী এলাকার সুপারি ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, ফাত্তা মিয়া, রবীন্দ্রনাথ জানান, প্রতি বছরের মতো তারা এবারো লাভের আশায় যৌথ মূলধনে আগাম ২০-২৫টি বাগানের সুপারি কিনেছিহঠা গাছের সুপারি ঝরে পড়তে থাকায় তারা মূলধন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেনতাদের মতো আগাম বাগান কিনে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন উপজেলার অন্যান্য ব্যবসায়ীরা

 

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা টি আই এম জাহেদুর রহমান জানান, সুপারি ঝরে পড়ার অভিযোগ অনেকে জানিয়েছেনএ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের গাছের গোড়ায় পরিমাণ মতো পটাসিয়াম ও পানি সেচ দিতে হবেতা হলে কিছুটা রা করা সম্ভব

 

ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুড়িগ্রামের শস্য উপাদন বিশেষজ্ঞ বিধু ভূষণ রায় জানান, পাম্পজাতীয় গাছ সুপারি, নারিকেল ও তাল তাপমাত্রা সহিষ্ণুএসব গাছ সাধারণত উচ্চতাপমাত্রা সম্পন্ন এলাকা বিশেষ করে সাগর উপকূলে ভালো হয়আমাদের এ অঞ্চলেও তাপমাত্রায় উষ্ণতা থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে এসবের চাষ হয়ে আসছেকিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি এ অঞ্চলে তাপমাত্রা হঠা কমে যাওয়ায় বোঁটাজাতীয় ফলদগাছের এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে

 

 

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন