এখনো ঘুরপাক খাচ্ছেন ক্রিস গেইল

0
85
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস ডেস্ক(০৭ ফেব্রুয়ারী): সোহাগ গাজীকে তাঁর এমনিতেই ভুলে যাওয়ার কথা নয়এখন নিশ্চয়ই আরও বেশি করে মনে পড়ছে! সোহাগের হাত ধরে যে দুঃস্বপ্নের শুরু, তাতেই যে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছেন ক্রিস গেইল!
কাল মানুকা ওভালে জেমস ফকনারের বলটি আরেকটু স্পষ্ট ফুটিয়ে তুলল গেইলের দুঃসময়লেংথ বলটিকে জায়গায় দাঁড়িয়ে ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস, ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ডযেন গেইলের দুঃসময়ের প্রতীকী ছবিঅন্য কোনো সময় হলে হয়তো এই বলকে ফ্লিক করে গ্যালারিতে ফেলতেন, কিংবা চাবুকের মতো চালিয়ে দিতেন সোজাকিন্তু এখন যে দুঃসময়!
দুঃসময়শব্দটিও যেন ঠিক যথেষ্ট নয় গেইলের দুঃসময় বোঝাতেএককথায় বলে দেওয়া যায়, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময় কাটাচ্ছেন তিনিগত ৫ অক্টোবর আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১ বলে ৭৫ রানের সেই ইনিংসটির পর থেকেই ফিফটির দেখা নেইটেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে কেটে গেছে ১৪টি ইনিংসআন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত লম্বা হাফ সেঞ্চুরি-খরায় আর ভুগতে হয়নি তাঁকেএর কাছাকাছি দুঃসময় এসেছিল এক যুগ আগে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখনও পায়ের নিচে শক্ত জমি খুঁজে পাননি২০০০ সালের ২ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জ্যামাইকায় ফিফটি করার পর আরেকটি পঞ্চাশের দেখা পেয়েছিলেন পরের বছরের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গায়ানা টেস্টেমাঝের ১২ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল ৪২
ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির ফাইনালে অজন্তা মেন্ডিসের বলে আউট হয়েছিলেন ৩ রানেতবে গেইলের দুঃসময়ের শুরুটা বলা যায় মূলত বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়েইসোহাগ গাজী নামের এক নবীন অফ স্পিনার ঘুম হারাম করে ছাড়লেন গেইল-দৈত্যেরব্যাটিং-দক্ষতা তো আছেই, গেইলের মতো ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ আত্মবিশ্বাসসোহাগ বড় ধাক্কা দিয়েছেন গেইলের সেই জায়গাটাতেইসেটির জের অবশ্য এত দিন চলাটা একটু বিস্ময়করই
ওয়ানডেতে পঞ্চাশের দেখা নেই টানা ১১ ইনিংসদুঃসময়ের অধ্যায়ে যা আরেকটি কালো ছোপএর আগে ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে পরের এপ্রিল ও ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দুই দফায় ফিফটিবিহীন ছিলেন টানা ১১ ইনিংসশুধু রানখরা বলে নয়, দুঃসময়টা আরও বেশি চোখে পড়ছে ব্যাটিংয়ের ধরনেবিস্ফোরক গেইল গত কিছুদিন যেন নিজের ছায়াপঞ্চাশ-খরার এই ১১ ওয়ানডেতে স্ট্রাইক রেট যেমন মাত্র ৫৮.৭৬!
টেস্ট-ওয়ানডেকে না হয় একটু পাশে সরিয়ে রাখা যাক, টি-টোয়েন্টির তো তিনি প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছেনঅথচ বিগ ব্যাশে প্রথম ৬ ম্যাচে মোট ৭২ রান করতে পেরেছিলেন ৯৯ বলে, শেষ ম্যাচে ৪৩ বলে ৬৫ করার পরও টুর্নামেন্ট স্ট্রাইক রেট ৯৬.৪৭! পরে ক্যারিবিয়ান টি-টোয়েন্টির দুই ম্যাচে ৮৫ ও ১২২ করায় মনে হচ্ছিল ছিঁড়তে পেরেছেন দুঃসময়ের জালকিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতেই আবার সেই জালে বন্দী
আগামীকাল সিডনিতে কি ছিঁড়তে পারবেন সেই জাল, নাকি সেটি আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে তাঁকে!

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন