কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্ত করতে জোরালো আন্দোলন না থাকায় হতাশ,নেতাকর্মীরা

0
33
Print Friendly, PDF & Email

 

ঢাকা (২ ফেব্রুয়ারী) : কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্ত করতে জোরালো আন্দোলন না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছেন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় দু’মাস ধরে কারাবাসে।

কারান্তরীণ আছেন দলটির স্বণির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গ্রেফতার এড়াতে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধে হয়ে আছেন যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাদের মুক্তির দাবিতে দলের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন আন্দোলন না থাকায় কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের নেতারাও হতাশ হয়ে পড়ছেন। কর্মীরা পড়ছেন ঝিমিয়ে।

কেবল প্রেসক্লাব ভিত্তিক মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় নিয়মিত অংশ নিয়ে দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা পড়ছেন কর্মীদের কড়া সমালোচনায়।

দলটির এমন দুরাবস্থার খবর লন্ডনে চিকিৎসাধীন সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এমনকি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জম্মদিন ও কারামুক্তি দিবস পালনেও তৃণমূল কর্মীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। এদিকে দলটি কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিবে টুকটাক কিছু কর্মসূচি দিয়ে সময় পার করছে। সদ্য গত জানুয়ারিতেও বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েকটি দায়সারাগোঠের বিক্ষোভ সমাবেশ ও একটি জনসভা আয়োজন করতে দেখা গেছে।

ওইসব কর্মসূচিতে দলের দায়িত্বশীল ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম।উপরন্তু সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা আন্দোলনে মাঠে থাকার চেয়ে মঞ্চে বসতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন বেশি। ২০১২ সালে যে সব যুব নেতাকে মাঠে দেখা যেত তারাও যেন হারিয়ে যেতে বসেছেন রাজপথ থেকে। দলটির যুব নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল টকশোতেই বেশি সময় পার করছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদল সেক্রেটারি সাইফুল আলম নীরব, কেন্দ্রীয় অফিসে অবরুদ্ধ রিজভী ছাড়া অন্য কোন কেন্দ্রীয় নেতাকে পার্টি অফিসে নিয়মিত কমই দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় অফিসে কর্মীদের আনাগোনাও অনেক গেছে কমে। একই সময়ে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ও ঝিমিয়ে পড়ছে। এ অফিসটি সন্ধ্যা হলেই সরগরম হয়ে উঠত। তাও এখন নিরব হয়ে গেছে।

তরিকুল ইসলাম দলটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন শুরুর করার পর থেকে সুবিধাভোগী নেতাদের আনাগোনা কমে গেছে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এসব নেতাকে নিয়ে দলের মধ্যেই রসালো আলোচনা যেমন চলছে, তেমনি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামকে কটাক্ষ করছেন সরকারি দলের নেতারাও।  

গত বছর ৯ ডিসেম্বর ফখরুল গ্রেফতার হওয়ার পরদিন আধাবেলা হরতাল দিয়েই যেন দায় সেরেছে বিএনপি। এরপর ফখরুলের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর বিভাগের একাধিক জেলায় হরতারসহ আরো কিছু কর্মসূচি পালন করা হলেও কেন্দ্র থেকে আর কোন বড় কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দলের ভেতর ও বাহিরে অনেক সমালোচনা হয়েছে।

দলীয় সূত্রমতে, মির্জা ফখরুলে মুক্তির দাবিতে ৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ হরতালের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটির নীতি নির্ধারকরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বার্ষিক ভোজসভার কারণে সে কর্মসূচি আলোর মুখ দেখেনি। এমন প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের মুক্তি বিএনপিই চাইছে না বলে সমালোচনা চলছে দলীয় পরিমণ্ডলে।

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন