দুই নেত্রীর সমঝোতা না হলে সুযোগ নেবে তৃতীয় শক্তি: ড.ইফতেখারুজ্জামান

0
81
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (১ফেব্রুয়ারী): ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া আলোচনার টেবিলে বসলেই বর্তমান সমস্যার সমাধান হতে পারে। দুই নেত্রী সমঝোতায় না এলে তৃতীয় শক্তি হস্তক্ষেপের সুযোগ নিতে পারে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধে দেশে সহিংসতা বাড়ছে। জনগণের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রী ছাড় দিলেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এক আলাপচারিতায় তিনি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, আমার বিশ্বাস, দুই নেত্রীর এক সময় উপলব্ধি হবে_ নিজেদের অনড় অবস্থানের কারণে তৃতীয় কোনো শক্তিকে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। সেটা কারও জন্যই সুখকর হবে না। তিনি ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুই নেত্রীর নিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তারা দুজনই সেই সময়ের ভুক্তভোগী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরবিরোধী অবস্থান উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বাদ দিয়ে দুই নেত্রী যদি একসঙ্গে বসতে পারেন তাহলে নির্বাচন প্রশ্নে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বাকি ফর্মুলা বের করে দেবেন। নাম যাই হোক, নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক হয়ে গেলে সংকট কেটে যাবে। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এটা ঠিক হয়নি। বাইরের কোনো দেশের তৎপরতায় এদেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আসবে না। আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এখনকার সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের কাছেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে দুই দলকে সরে আসতে হবে। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আতঙ্ক ও উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদেরই দায় সবচেয়ে বেশি।

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াত-শিবিরের সহিংস আন্দোলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির পূর্বশর্ত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে জামায়াত এই সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে না। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে হরতাল, সংঘাতময় অবস্থা সৃষ্টি করা উচিত নয়। ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হতে হবে। জনগণকে জিম্মি করে, নিরীহ মানুষকে আঘাত করে জামায়াত গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ঠাঁই পাবে না। এটা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও সুখকর নয়।

  নিউজরুম 


শেয়ার করুন