কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে

0
80
Print Friendly, PDF & Email

ব্যবসা ও অর্থনীতিডেস্ক(০১ ফেব্রুয়ারী):বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ প্রবাসীআয় (রেমিট্যান্স) পাঠিয়েছেন দেশে। এত বেশি রেমিট্যান্স পাওয়ার ধারণা এর আগের মুদ্রানীতি প্রণয়নের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রক্ষেপণের মধ্যে ছিল না। ইতিমধ্যে এই সম্পদ ঢুকে পড়েছে ব্যাংক খাতে। মূলত কারণেই খানিকটা মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে।
নতুন ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সুদের হার নামিয়ে আনারও উদ্যোগ নিয়েছে। জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দুটি নীতিনির্ধারণী সুদের হার দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট (মাত্রা) কমিয়েছে। সব মিলিয়ে একটা সংকুলানমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ছয় মাসের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, প্রধান অর্থনীতিবিদ হাসান জামান শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে ব্যাংকগুলোকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতিনির্ধারণী সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার থেকে কার্যকর করা হবে। এই নীতিনির্ধারণী উপাদান দুটি হলো রেপো (ট্রেজারি বিলের পুনঃ ক্রয় চুক্তি) রিভার্স রেপো (পুনঃ পুনঃ ক্রয় চুক্তি) এই দুটি ক্ষেত্রেই সুদের হার দশমিক ৫০ শতাংশীয় মাত্রা কমানো হয়েছে। তাই রেপোর সুদের হার দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমে দশমিক ২৫ শতাংশ এবং রিভার্স রেপোর সুদের হার দশমিক ৭৫ থেকে কমে দশমিক ২৫ শতাংশ পুনর্নির্ধারিত হয়েছে। এরই গতিধারায় বিশেষ রেপোর সুদের হার ১০ দশমিক ৭৫ থেকে কমে হবে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
যোগাযোগ করা হলে হাসান জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবাসীআয় আমরা পেলাম, তা যাতে ৎপাদন খাতে ব্যবহার করা যায়, মুদ্রানীতিতে সেই পদক্ষেপগুলোই নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রবৃদ্ধির সহায়ক ৎপাদনশীল খাতে অর্থ প্রবাহে শিথিলতা থাকলেও সম্পদের মূল্য যাতে ফুলেফেঁপে না ওঠে তার জন্য সংরক্ষণ নীতিতে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ জোগান নিরুৎসাহিত করার ঘোষণা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্যে। এই বিবেচনায় আতিউর রহমান নতুন মুদ্রানীতির ভঙ্গিকে ভারসাম্যপূর্ণ বলেছেন।
নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছর শেষে (জুন, ২০১৩) মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে একই সময়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৮ দশমিক শতাংশ, যা আগের প্রক্ষেপণে ছিল ১৮ দশমিক শতাংশ। সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২০ দশমিক শতাংশ, যা আগে ছিল ২০ দশমিক শতাংশ।
একইভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৮ দশমিক শতাংশ, আগের মুদ্রানীতিতে যা ছিল ১৮ শতাংশ। ছাড়া বেসরকারি খাতে গত ডিসেম্বর শেষে বার্ষিক ঋণ বেড়েছে মাত্র ১৬ দশমিক শতাংশ। সরকারের ঋণ ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি দশমিক শতাংশ (বাজেট লক্ষ্যমাত্রা) ধরে এই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ সম্প্রতি জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক থেকে দশমিক শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘পরিবেশ অনুকূল থাকলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমরা যাতে সহযোগিতা করতে পারি তার জন্য এটি করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে প্রোগ্রামে পরিবর্তন আনা হবে।অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়নে সরকারের কোনো চাপ নেই, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষেত্রে স্বাধীন।
অপর প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ মালিক কাজেমী বলেন, গ্যাসবিদ্যুসংকট কাটিয়ে ওঠা মধ্য মেয়াদের বিষয়। তবে রপ্তানির বর্তমান প্রবৃদ্ধি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বাড়ছে। কারণে যতটা সম্ভব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে মুদ্রানীতি

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন