একই দিনে তিন সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিন

0
253
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (১ফেব্রুয়ারী) : দেশের তিন সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিন শুক্রবার। এই দিনে (১ ফেব্রুয়ারি) সাবেক ওই তিন রাষ্ট্রপতি জন্মগ্রহণ করেন।  

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। একই বছর ও একই দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অপরদিকে প্রয়াত অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩১ সালের এই দিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার নারায়ণগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নানা ভাবে সাবেক এ তিন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাজনৈতিকসহ নানা অঙ্গণে আলোচিত ও সমালোচিত।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরে ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৮ সালে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন এরশাদ।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান থাকাকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে একটানা ৯ বছর দেশ পরিচালনা করেন এরশাদ।

এরপর নব্বইয়ের গণ আন্দোলনের মুখে ৬ ডিসেম্বর দেশের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ। ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই ছয় বছর কারারুদ্ধ ছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে ‍জামিনে মুক্তি পান এরশাদ।

এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্ব স্ব আসনে পাওয়া ভোটের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এরশাদ।

বর্তমানে তিনি মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি এবং প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এ দায়িত্বে আছেন এরশাদ।

বর্তমানেও রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা ভাবে আলোচিত এরশাদ। সামনে তিনি মহাজোট থেকে বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনে গিয়ে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে তিনি দেশের বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থীদের নামও ঘোষণাও করেছেন।
 
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে। তার পিতা তালুকদার রিসাত আহমেদ একজন সমাজসেবী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ‍এবং ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনে ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক, জজ, বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
 
এরশাদ সরকারের পতনের পর তিন জোটের সমর্থনে দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন শাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে একেবারে লোকচক্ষুর আড়ালে জীবন-যাপন করছেন বাংলাদেশের ‍অন্যতম সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।

অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ
১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ মুন্সীগঞ্জ জেলার নারায়ণগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভি মুহাম্মদ ইব্রাহিম। ১৯৪৮ সালে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, ১৯৫০ সালে মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ ও ১৯৫৮ সালে যথাক্রমে বিএসসি ও এমএসসি পাস করেন। ১৯৬২ সালে যথাক্রমে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ ছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকোন্সিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

বিএনপি সরকারের আমলে ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবেও তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে জরুরি আইন জারি করেন তিনি।

ড. ইয়াজউদ্দিন রাজনৈকিতভাবে দারুণভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তার স্থলাভিষিক্ত হন ২০০৯ সালে।
 
অনেক দিন ধরেই হৃদরোগ ও কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

নিউজরুম

শেয়ার করুন