পল্টন থানার মামলায় মির্জা ফখরুলের জামিন

0
347
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (৩১জানুয়ারী) : রাজধানীর পল্টন থানার গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশকে হত্যার চেষ্টা ও ককটেল বিষ্ফোরণ সংক্রান্ত রমনা থানার মামলায় বিরতির পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিচারক।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে পল্টন থানার মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে সকালে পুলিশকে হত্যার চেষ্টা ও ককটেল বিষ্ফোরণ এবং গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত রাজধানীর পল্টন ও কলাবাগান থানার ওই দু’টি মামলায় মির্জা ফখরুলের জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়।

আসামিপক্ষে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যরিস্টার মাহবুবুদ্দীন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম খান ও অ্যাডভোকেট মো. রোকনুজ্জামান সুজা। রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু।

বুধবার মামলা দু’টিতে জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। ফখরুলের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহের আবেদনক্রমে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলা দু’টির জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবীরা হাজির হতে না পারায় এ সময়ের আবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি পল্টন থানার মামলা ও ২৪ জানুয়ারি কলাবাগান থানার মামলায় সিএমএম আদালত ফখরুলের জামিনের আবেদন নাকচ করলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি জামিনের আবেদন দু’টি করা হয়েছিল।

পল্টন থানার মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে দুপুর একটায় মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ২০০/৩০০ বিএনপি নেতাকর্মী ভিআইপি রোডের হোটেল ক্যাপিটালের সামনে মিছিল থেকে পুলিশের ওপর ৫টি ককটেল নিক্ষেপ করেন।

এছাড়াও অপর একটি মিছিল আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পুলিশকে লক্ষ্য করে ৪টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ডিসেম্বর বিএনপির এক সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল অবরোধে রাস্তায় গাড়ি বের না করতে হুমকি প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে ফখরুলের পরিকল্পনা ও নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ওই ঘটনা সংঘটিত করেছেন।

এছাড়া কলাবাগান থানার মামলায় অবরোধের দিন পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার পৃথক দুই মামলায় গত ২ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলে ওই দিনই তাকে সূত্রাপুর ও মতিঝিলের দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) হয়।

গত ১৫ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল সূত্রাপুর থানার মামলায় জামিন পেলে ১৬ জানুয়ারি তাকে আরও দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধে গাড়ি ভাংচুর, পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা ও বিষ্ফোরক আইনে রাজধানীতে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়।
এসব মামলার দু’টিতে মির্জা ফখরুলকে সরাসরি আসামি করা হয়। অপর মামলাগুলোর এজাহারে থাকলেও এফআইআরে তার নাম নেই।

৯ ডিসেম্বর অবরোধের দিনের ঘটনায় মির্জা ফখরুলকে এ পর্যন্ত ৬টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪টি মামলায় তিনি জামিনে আছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছ’টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের নিচ থেকে মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

নিউজরুম

শেয়ার করুন