হরতাল করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো যাবে না: ড.মিজান

0
83
Print Friendly, PDF & Email

চট্টগ্রাম (৩০জানুয়ারী): জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন,‘হরতাল, ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচি পালন করে যুদ্ধাপরীদের বিচার বন্ধ করা যাবে না।’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কঠিন যুদ্ধ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন,‘বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময় যারা বিরোধীতা করেছিল তাদের বিচার হবেই। যুদ্ধাপরীদের বাঁচাতে যতই চেষ্টা করা হোক এ বিচার সম্পন্ন করে জাতি কঠিন যুদ্ধে জয়ী হবে।’

বুধবার দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’বছর মেয়াদী এলএলবি কোর্সের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেই বাধা আসে।‘

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। যখনই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে তখনই একটি পক্ষ কৃত্রিম ক্ষমতা তৈরি করে  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।’ 

এ কোন ষড়যন্ত্রে উপনীত হয়েছি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ড. মিজান বলেন, ‘যেখানে জগণ্যতম অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধেও কেউ না কেউ দাড়িয়ে থাকে। কেউ না কেউ আস্ফালন করে। এর বিরুদ্ধে জ্বালাও পোড়াও থেকে শুরু করে হরতাল কর্মসূচি দেয়া হয়।’

সংবিধানের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার  মালিক জনগণ বলা হলেও বাস্তবে তা খুঁজে পাই না।সেখানে দেখতে পাই এক শ্রেণির লোকের হাতে। যাদের অর্থ, প্রতিপত্তি ও পেশি শক্তি আছে।’

ড. মিজানুর রহমান বলন,‘ এখন জনগণের কিছুই নেই, তাদের ক্ষমতা কোথায়?কিভাবে তারা প্রজাতন্ত্রের মালিক হচ্ছে? সংবিধান মানুষকে ক্ষমতার মালিক হিসেবে ঘোষণা করলেও বাস্তবে সেই জনগণ হয়ে গেছেন ‘আনপিপল’।

এই ‘আনপিপল’ বা অজনগণকে জনগণে রুপান্তরিত করে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে সেই মালিকানা তুলে দিতে  শিক্ষার্থী ও তরুণ আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

ড. মিজান বলেন, ‘ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে ও সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।’

জাতীয় মানবাধিকারের পক্ষে তিনি নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রুখে দাঁড়িয়ে সত্যিকারের পুরুষ হওয়ার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই কো-অর্ডিনেটর এবিএম আবু নোমানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী, রেজিস্ট্রার নুরুল হুদা শিকদারসহ শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।

নিউজরুম

শেয়ার করুন