কৃষি ডেস্ক(৩০ জানুয়ারী): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩২ হাজার টন ধান উৎপাদনের ল্যমাত্রা নিয়ে বোরে আবাদ শুরু হয়েছে। মওসুমের শুরুতে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর আবাদি জমিতে পানি না থাকায় মাটি ফেটে চৌচির হয়েছে। তীব্র শীতের কারণে এবার কৃষকেরা বীজতলা সময় মতো করতে পারেনি। এ ছাড়া অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে অনেক স্থানে বীজতলা নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গত সোমবার গুমাইবিলের দরগাটিলা এলাকায় প্রায় ছয়-সাত একর জমিতে বোরো রোপণ করছেন কৃষকেরা। কৃষক মো: তাহের জানান, শ্রমিকের মজুরি দৈনিক ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দিতে হয়। খাওয়া, থাকা ও চা নাশতাসহ সব খরচ বহন করতে হয়। সারের দাম বেশি, তার ওপর জমিতে পানি সেচ দিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়। প্রতি কানি (৪০ শতক) জমিতে প্রায় দুই হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। প্রতি কানি জমি চাষ করতে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ পড়ে। ধান উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ ৭০-১০০ আড়ি।প্রকারভেদে প্রতি আড়ি ধান বিক্রি হয় ১২০-১৮০ টাকা। বছর শেষে আয়-ব্যয় হিসাব করলে কৃষকের আরো দু-এক হাজার টাকা লোকসান থাকে।
হোছনাবাদ ইউনিয়নের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতি কানি জমি দুই হাজার টাকা খাজনা দিয়ে চাষ করতে হয়। সময় মতো জমি তৈরি করতে পানি না পেলে ল্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো উৎপাদন হবে না। কর্ণফুলী নদী থেকে পানি খালে সরবরাহ না করলে এ সঙ্কট কাটবে না। তাই দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গুমাইবিলের মরিয়মনগর ব্লকের কৃষক ছাত্তার, সৈয়দ ও সাব্বির জানান, পুকুর থেকে পানি তুলে জমিতে সেচ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। খালে পর্যাপ্ত পানি নেই। অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। একই এলাকার কৃষক মো: কাশেম বলেন, দুই একর বর্গা জমিতে এবার বোরো চাষ করছেন। শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় নিজেই একা এবার বোরো চাষ করবেন।
রাঙ্গুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশন এআইপি ইছামতী ইউনিট সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, পানির জন্য কৃষকদের মধ্যে হাহাকার চলছে। আকবর সিকদারপাড়া এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ করায় খাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় খালের পাড় বাঁধ দেয়া হয়নি, ইনটেকচ্যানেল আরপিপি পাম্পের নিচে খনন করা হয়নি। পলি ভরাট হয়ে গেছে। প্রতি বছর খাল খনন করতে হয়, এবার বাজেট স্বল্পতা দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পানির অভাবে এ বছর প্রায় দুই হাজার একর জমির বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৫টি ইউনিয়ন পৌর এলাকায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে হাইব্রিট ৬৮৫ হেক্টর, উপশী ধান সাত হাজার ৪৭০ হেক্টর মোট আট হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা সুধীন্দ বড়–য়া বলেন, পানির অভাবে বোরো আবাদ পুরোদমে শুরু করতে পারেননি কৃষকেরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে পানি পাওয়া গেলে বেশির ভাগ জমি বীজতলা রোপণের জন্য তৈরি হতে পারে। সব কিছুই নির্ভর করছে পানি সেচ পাওয়ার ওপর। এ বছর প্রায়ই জমি আবাদি হিসেবে বোরো চাষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আক্তারুজ্জামান বলেন, পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা সমন্বয় সভায় লিখিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানি সরবরাহ পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজরুম